লোকসভা ভোটের আবহে এবার মেটিয়াব্রুজের সভা থেকে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীকে একযোগে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, পর্দার আড়ালে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে গভীর ‘সেটিং’ রয়েছে। রাজ্যে ভোটপ্রচারে এসে তৃণমূল ও বিজেপিকে একই বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানালেন তিনি।
“মোদী-মমতা ভাই-বোন?” সেটিং তত্ত্ব উসকে দিলেন রাহুল
মেটিয়াব্রুজের জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন ইডি (ED) বা সিবিআই (CBI) বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন—
“বিরোধীদের জেলে ভরা হচ্ছে, কিন্তু মমতাজির বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেই। কারণ তাঁর সঙ্গে মোদীজির গোপন বোঝাপড়া বা ‘সেটিং’ আছে। তৃণমূল এখানে বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করছে।”
তৃণমূলকে ভোট মানেই বিজেপির লাভ!
রাহুল গান্ধী মেটিয়াব্রুজের সংখ্যালঘুবহুল এলাকায় দাঁড়িয়ে ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, তৃণমূলকে একটি ভোট দেওয়া মানেই পরোক্ষভাবে বিজেপিকে শক্তিশালী করা। তাঁর দাবি, তৃণমূল মুখে বিজেপির বিরোধিতা করলেও কাজের সময় বিজেপিকে সুবিধা করে দেয়। রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের একমাত্র লড়াই কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির, বাকিরা কেবল নাটক করছে।
বেকারত্ব ও অর্থনীতি নিয়ে তোপ
মোদী সরকারকে আক্রমণের পাশাপাশি রাহুল মেটিয়াব্রুজের স্থানীয় সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নোটবন্দি ও ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি (GST) বাংলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী যেমন আম্বানি-আদানিদের জন্য কাজ করছেন, তেমনই রাজ্যে তৃণমূলও সাধারণ মানুষের কথা ভাবছে না।
রাজনৈতিক মহলের চর্চা
রাহুল গান্ধীর এই ‘সেটিং’ তত্ত্বে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির। অন্যদিকে বিজেপিও রাহুলের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তবে মেটিয়াব্রুজে দাঁড়িয়ে রাহুলের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ যে বাম-কংগ্রেস জোটের ভোটব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করবে, তা বলাই বাহুল্য।





