তৃণমূল-বিজেপির ‘সেটিং’ না কি অন্য কিছু? ইভিএম নিয়ে সুজন চক্রবর্তীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এর মাঝেই শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়ালেন বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি— এই দুই দলই আসলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার চেয়ে ইভিএম দখল এবং ক্ষমতার পেশিশক্তি প্রদর্শনের লড়াইয়ে বেশি মত্ত।

মানবাধিকার বনাম ক্ষমতার লড়াই: সুজন চক্রবর্তীর দাবি, বর্তমানে রাজ্যের সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি, শিক্ষা কিংবা স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে কোনো পক্ষেরই মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, “তৃণমূল আর বিজেপি দুজনেই চাইছে কীভাবে বুথ দখল করা যায়, কীভাবে ইভিএম কব্জায় রাখা যায়। মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই এখন কেবল লোক দেখানো, আসল লক্ষ্য হলো ক্ষমতার গদি ধরে রাখা।”

তৃণমূল-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগ: বাম শিবিরের এই হেভিওয়েট নেতার নিশানায় ছিল দুই দলের তথাকথিত ‘লড়াই’। তাঁর মতে, মানুষের নজরে ধুলো দিতে এই দুই দল বাইরে বিরোধিতার নাটক করলেও, তলে তলে তারা একে অপরকে সাহায্য করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজ্যের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো নির্বাচনী প্রচারে ঠাঁই পাচ্ছে না? কেন কেবল ইভিএম পাহারা দেওয়া আর স্ট্রং রুম নিয়ে চর্চা হচ্ছে?

ভোটারদের প্রতি বার্তা: নির্বাচনী আবহে ভোটারদের সচেতন হওয়ার ডাক দিয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে কারা তাদের আসল প্রয়োজনের কথা বলছে। ইভিএম দখল বা রিগিংয়ের রাজনীতি আসলে গণতন্ত্রের পরাজয়। বামেরা এই ‘লুট’ ও ‘সেটিং’-এর রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, সুজন চক্রবর্তীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, তৃণমূল বা বিজেপি এই গুরুতর অভিযোগের কী জবাব দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy