ফজলি আমের সুবাস আর গঙ্গার ভাঙনের কান্নার মাঝেই এবার মালদায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ভাঙা-গড়ার খেলা। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে মালদার ১২টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। তবে এবারের নির্বাচনে সবথেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কোতোয়ালি বাড়ির মেয়ে মৌসম বেনজির নুর।
মৌসমের ‘ঘর ওয়াপসি’ ও কংগ্রেসের আশার আলো তৃণমূলের হাত ছেড়ে ফের নিজের পুরনো আস্তানা কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম। মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনি। মালদার মানুষের কাছে ‘গনি খান চৌধুরী’র নাম আজও আবেগের। সেই গনি পরিবারের সদস্য মৌসম তৃণমূলে যাওয়ায় যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তাঁর ফিরে আসায় তা অনেকটা প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মৌসমের দাবি, “কংগ্রেস পরিবারে ফিরতে পেরে আমি খুশি। মালদার ১২টি আসনই এবার আমাদের লক্ষ্য।”
অটুট ‘গনি-ম্যাজিক’ ও স্থানীয় সমীকরণ মালদার রাজনীতিতে গনি খান চৌধুরী আজও ‘পীরবাবা’র মতো শ্রদ্ধেয়। স্থানীয়দের মতে, গনি সাহেবের প্রভাব কোনোদিন ফিকে হবে না। বিশেষ করে সুজাপুর, মোথাবাড়ি ও রতুয়ার মতো এলাকাগুলোতে আজও কংগ্রেসের প্রধান তুরুপের তাস এই ‘গনি ফ্যাক্টর’। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ইশা খান চৌধুরীর জয় প্রমাণ করেছে যে মালদায় কংগ্রেসকে মুছে ফেলা সহজ নয়।
বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তি ও খগেন মুর্মু কংগ্রেসের গড় পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। একসময়ের বাম দুর্গ এখন গেরুয়া হাওয়ায় ভাসছে। প্রাক্তন কমিউনিস্ট নেতা খগেন মুর্মু এখন মালদায় বিজেপির প্রধান মুখ। তাঁর দাবি, “মানুষ তৃণমূলকে উৎখাত করতে প্রস্তুত। বিজেপিই একমাত্র দল যারা মানুষের জন্য রাস্তায় নেমে লড়ছে।” গত নির্বাচনে বিজেপি মালদায় ৪টি আসন জিতেছিল এবং ২০২৪-এর ফলে ৬টি বিধানসভা আসনে তারা এগিয়ে ছিল।
সংশয়ে শাসকদল তৃণমূল? অন্যদিকে, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী দলের জয় নিয়ে আশাবাদী হলেও লড়াই যে কঠিন তা মেনে নিয়েছেন। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর জনমুখী প্রকল্পগুলোই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র, তবে মালদার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘বহিরাগত’দের প্রবেশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একনজরে মালদার নির্বাচনী সমীকরণ:
মোট আসন: ১২টি।
কংগ্রেসের দুর্গ: চাঁচল, মালতিপুর, রতুয়া, মোথাবাড়ি, হরিশচন্দ্রপুর এবং সুজাপুর।
বিজেপির শক্ত ঘাঁটি: হবিবপুর, গাজল, মালদা, ইংরেজবাজার, মানিকচক এবং বৈষ্ণবনগর।
ফ্যাক্টর: গঙ্গার ভাঙন, গনি খানের উত্তরাধিকার এবং মৌসমের ঘরে ফেরা।
গনি-ম্যাজিক কি পারবে বিজেপির জয়রথ রুখে দিতে? নাকি মৌসমের ফেরা শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিশমাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।





