তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে হাঁসফাঁস করছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের একাধিক জেলায় চলছে অসহনীয় গরম, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর মিলছে, যা এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এমত অবস্থায়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে: আগামী ১৩ জুন (শুক্রবার) এবং ১৪ জুন (শনিবার) রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: ‘প্রবল তাপপ্রবাহ’ই কারণ
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তার এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, “প্রবল তাপপ্রবাহ এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে আগামী দু’দিন (১৩ ও ১৪ জুন) রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বন্ধ থাকবে।” এই ত্বরিত পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।
পারদ চড়ছে, বাড়ছে অসুস্থতা
গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র গরমে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হিটস্ট্রোক বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার শিকার হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছিল, এবং তাদের পক্ষ থেকে স্কুল বন্ধের দাবিও উঠছিল। ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতেই রাজ্য সরকার এই ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যই অগ্রাধিকার, সাময়িক পড়াশোনার ক্ষতি
উল্লেখ্য, প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরমের কারণে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা বা ছুটি ঘোষণা করার ঘটনা ঘটে থাকে। তবে, এবারের তাপপ্রবাহের তীব্রতা এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা রাজ্য সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা স্বস্তিদায়ক হলেও, ছুটির ফলে পড়াশোনার সাময়িক ক্ষতি হবে। তবে, রাজ্য সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যই যে প্রধান অগ্রাধিকার, তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুলগুলো পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়েছে। এখন দেখার, প্রকৃতির এই রুদ্র রূপ থেকে রাজ্য কবে মুক্তি পায় এবং কবে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে তাদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরতে পারে।