একদিকে যখন পশ্চিমবঙ্গ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবার বিজেপি সরকারকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক অলৌকিক ঘটনা। দ্রাবিড় রাজনীতির কয়েক দশকের দুর্গ ভেঙে চুরমার করে তামিলনাড়ুর মসনদে বসার দাবি জানালেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপথি বিজয়। তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (TVK) ১০৮টি আসন জিতে বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি। তবুও দমে না গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন বিজয়।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। সেখানে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেলেও গাণিতিক জটিলতা আরও বেশি। বিজয় নিজে পেরাম্বুর এবং ত্রিচি পূর্ব—এই দুটি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে, ফলে তাঁর দলের কার্যকর আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৭। সরকার টিকিয়ে রাখতে তাঁর আরও অন্তত ১১ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। এছাড়াও স্পিকার নির্বাচনের পর এই সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিজয় এই বাড়তি সমর্থন পাবেন কোত্থেকে? সূত্রের খবর, পর্দার আড়ালে ইতিমধ্যেই জোটের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন বিজয়। ডিএমকে-র নেতৃত্বাধীন জোটে ফাটল ধরানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ডিএমকে-র হাতে ৫৯টি আসন রয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের ৫টি এবং ভিসিকে ও বামপন্থীদের হাতে রয়েছে কয়েকটি আসন। অন্যদিকে এআইএডিএমকে-র দখলে রয়েছে ৪৭টি আসন। জল্পনা উসকে দিয়েছেন বিজয়ের বাবা এস. এ. চন্দ্রশেখর। তিনি প্রকাশ্যেই কংগ্রেসকে টিভিকে-র সঙ্গে জোটে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের ঐতিহ্য আছে, কিন্তু ক্ষমতার অভাবে তারা দুর্বল। আমরা তাদের শক্তি দিতে প্রস্তুত।”
রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে বিজয় ১৫ দিনের সময় চেয়েছেন বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য। রাজ্যপাল এই আবেদনে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়েই এখন টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে। এর মধ্যেই বিজয়ের নীলানকারাই-এর বাসভবনের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকশো পুলিশ কর্মী এলাকা ঘিরে রেখেছেন। সমর্থক ও সাংবাদিকদের ভিড়ে সরগরম চেন্নাই। তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এটি এক সন্ধিক্ষণ—যেখানে দীর্ঘদিনের ডিএমকে বা এআইএডিএমকে ঘরানার বাইরে গিয়ে একজন সুপারস্টার সরকার গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এখন দেখার, ১৫ দিনের মধ্যে বিজয় তাঁর ‘রাজনৈতিক সিনেমা’র সফল ক্লাইম্যাক্স দেখাতে পারেন কি না।





