ভ্যাপসা গরমে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়! শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং জলের ঘাটতি মেটাতে এই ফলের জুড়ি মেলা ভার। এতে প্রায় ৯০ শতাংশই জল থাকে, সাথে আছে ভিটামিন সি, এ এবং লাইকোপেনের মতো শক্তিশালী উপাদান। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভুল সময়ে তরমুজ খেলে এই উপকারী ফলই আপনার শরীরের জন্য বিষ হয়ে দাঁড়াতে পারে?
সম্প্রতি জয়পুরের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রোহিত শর্মা তরমুজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন রাতে তরমুজ এড়িয়ে চলবেন?
অনেকেই ডিনারের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে ফল খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে তরমুজ খাওয়া হজম প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যেহেতু রাতে আমাদের বিপাক হার (Metabolism) ধীর হয়ে যায়, তাই তরমুজ খেলে পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়া এটি একটি দ্রুত হজমযোগ্য ফল হওয়ায় খাওয়ার ঠিক পরেই এটি খেলে হজমতন্ত্রে গোলমাল দেখা দেয়।
খালি পেটে তরমুজ: কতটা নিরাপদ?
শরীরচর্চাকারীরা অনেক সময় খালি পেটে তরমুজ খেতে পছন্দ করেন, যা সবার জন্য মোটেও সুখকর নয়। ডা. শর্মা জানাচ্ছেন:
সুগার বৃদ্ধি: তরমুজে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা খালি পেটে খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হজমের সমস্যা: অতিরিক্ত জলের কারণে পেটে ভারী ভাব, অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালা হতে পারে।
ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য: অতিরিক্ত তরমুজ খেলে বারবার প্রস্রাব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করে দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।
পেটের রোগ: যাদের হজমশক্তি দুর্বল, খালি পেটে তরমুজ খেলে তাদের ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে সেরা সময় কোনটি?
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, তরমুজ খাওয়ার আদর্শ সময় হলো সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে। সকালের নাস্তা বা ব্রেকফাস্টের কিছুক্ষণ পর এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এই সময়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে, ফলে শরীর তরমুজের সবটুকু পুষ্টি অনায়াসেই শোষণ করে নিতে পারে।





