সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনার মাঝেই ফের পিছন থেকে ছোবল মারার চেষ্টা চীনের। ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ অরুণাচল প্রদেশের ৩০টি জায়গার নাম নিজেদের মতো করে বদলে দিয়ে এক নতুন ‘কার্টোগ্রাফিক আগ্রাসন’ শুরু করেছে বেইজিং। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এই পদক্ষেপকে শুধু ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেয়নি, বরং বেইজিংকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, নাম বদলালেই বাস্তব সত্য কখনো বদলে যায় না।
চীনের সিভিল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় অরুণাচলকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে পাহাড়, নদী ও গ্রামসহ মোট ২৩টি জায়গার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। গত দশ বছরে এটি তাদের ষষ্ঠ প্রচেষ্টা। বেইজিংয়ের দাবি, এটি তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’। এর পাল্টা জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “ভারত চীনের এই ক্ষতিকর প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ভিত্তিহীন কাহিনী তৈরি করে বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”
অরুণাচলের স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব চীনের এই কাজকে স্রেফ ‘পাগলামি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাওয়াং থেকে ইটানগর— সর্বত্রই ওড়ছে তেরঙা। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “চীন মানচিত্রে নাম বদলাতে পারে, কিন্তু আমাদের পরিচয় বদলাতে পারবে না। আমরা গর্বিত ভারতীয়।” বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে যখন দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলছে, তখন চীনের এই প্ররোচনামূলক আচরণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফাটলকে আরও চওড়া করবে।





