ডিজিটাল যুগে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রেম এবং সেখান থেকে লিভ-ইন— আধুনিক জীবনের এই ছবিটাই শেষপর্যন্ত অভিশাপ হয়ে নামল গুরগাঁওয়ের এক ১৯ বছরের ছাত্রীর জীবনে। বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় তাঁর ওপর যে নৃশংসতা চালানো হলো, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। অভিযুক্ত সঙ্গী শিভমকে (১৯) ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে গুরগাঁও পুলিশ।
ডেটিং অ্যাপে শুরু, বিভীষিকায় শেষ
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা তরুণী গুরগাঁওয়ের একটি কলেজের বায়োটেকনোলজির ছাত্রী। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে একটি জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় শিভমের। কয়েক মাস যেতে না যেতেই তাঁরা গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৬৯-এ লিভ-ইন করার সিদ্ধান্ত নেন। দুই পরিবারের মধ্যেও বিয়ের আলাপ-আলোচনা চলছিল। কিন্তু আসল রূপ প্রকাশ পায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি।
টানা ৩ দিন চলল নারকীয় নির্যাতন!
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে নিয়ে কথা কাটাকাটি হতেই হিতাহিত জ্ঞান হারায় শিভম। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি পিলে চমকে দেওয়ার মতো:
-
জঘন্য হামলা: তরুণীর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিভমের বিরুদ্ধে।
-
শারীরিক প্রহার: একটি ধাতুর বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার পাশাপাশি ছুরি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে হামলা চালানো হয়।
-
টানা বন্দি: টানা তিন দিন ওই ফ্ল্যাটে তরুণীকে আটকে রেখে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
মায়ের ফোনের পর উদ্ধার
নির্যাতিতার মা জানান, মেয়ে তাঁকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে সব কথা জানায়। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই তরুণী। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
গুরগাঁওয়ের ডিসিপি (দক্ষিণ) রিতেশ যাদব জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিভমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার (Section 307 & 376) অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে। তরুণীর মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করছে পুলিশ।