ডিজে কাণ্ডে হাজিরা দিতেই কি চাপে অভিষেক? কালীঘাটের বাড়িতে পুরসভার মাপজোক ঘিরে চাঞ্চল্য

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন ডিজে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সিআইডি ভবনে হাজিরা দিতে ব্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেই সময়েই তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে হানা দিলেন কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকরা। অভিষেকের ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে শুরু হয়েছে জমি ও নির্মাণ সংক্রান্ত মাপজোকের কাজ।

সকাল থেকেই পুরসভার একটি বিশেষ দল অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছে বাড়ির চারপাশের মাপ নেওয়া শুরু করে। মূলত বাড়ির আউটসাইড মাপ, লেন, ফুটপাত কতটা ছাড়া হয়েছে এবং সরকারি নিয়মের কোনো ব্যত্যয় বা ফুটপাতের কোনো অংশ দখল করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যাবতীয় পরিমাপ সম্পন্ন হওয়ার পর একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুর প্রশাসন। উল্লেখ্য, এই অভিযানের আগেই ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত ‘শান্তিনিকেতন’ বাসভবনেও অনুরূপ মাপজোকের কাজ সম্পন্ন করেছেন পুর আধিকারিকরা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কলকাতা পৌরনিগমের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাঁর কালীঘাটের বাড়ির অন্দরমহলের নতুন স্কেচসহ ‘এলিভেশন কপি’ জমা দেওয়ার জন্য। পুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান বা নির্মাণ নকশার বাইরে গিয়েই অন্দরমহলে নতুন করে নানা নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। সেই নির্মাণগুলো বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে নকশায় এঁকে জমা দেওয়ার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল।

কলকাতা পৌরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, কেবল কালীঘাট বা হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১৭টি সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই নোটিসে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র তলব করা হয়েছে। পুরসভার প্রাথমিক অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত নির্মাণ বা বেআইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন পুর কর্মকর্তারা।

সিআইডি দপ্তরে হাজিরা এবং একই সময়ে বাড়িতে পুরসভার এই কড়া তৎপরতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, পুরসভার দাবি, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আইন মেনেই সমস্ত সম্পত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পুরসভার চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পর কি নতুন কোনো আইনি বিপাকে পড়বেন অভিষেক, নাকি নথি জমা দিয়ে স্বস্তি ফিরবে তাঁর পরিবারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy