বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে আমাদের জীবন এখন পুরোপুরি আটকা পড়ে গিয়েছে স্মার্টফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে। সকালে চোখ মেলা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত— সোশ্যাল মিডিয়া, নোটিফিকেশন আর ভার্চুয়াল জগতের ভিড়ে আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের মানসিক ভারসাম্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘ডিজিটাল বার্নআউট’ (Digital Burnout)। এটি কোনও সাধারণ শারীরিক ক্লান্তি নয়, বরং এটি আপনার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর এক গভীর অবসাদ।
কেন হয় এই ডিজিটাল বার্নআউট? গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ৬৬ শতাংশের বেশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা এই সমস্যায় আক্রান্ত। এর প্রধান কারণগুলি হল:
তথ্যের বন্যা (Information Overload): সারাক্ষণ ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ আর নিউজ পোর্টালের নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্ককে এক মুহূর্তও বিশ্রাম নিতে দেয় না।
FOMO বা হারানোর ভয়: অন্য কেউ ঘুরতে গেল বা নতুন কিছু কিনল, সেটা দেখে নিজের জীবন নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা বা ‘পিছিয়ে পড়ার ভয়’ (Fear of Missing Out) আমাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ক্লান্তিকর সিদ্ধান্ত (Decision Fatigue): সারাদিন ইন্টারনেটে হাজার হাজার কন্টেন্টের মধ্য থেকে কোনটি দেখবেন বা কোনটিতে রিঅ্যাক্ট করবেন, তা বাছাই করতে গিয়েই মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
শরীরে এর প্রভাব কতটা মারাত্মক? ডিজিটাল বার্নআউটের ফলে অনিদ্রা, চোখে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়। সব সময় অনলাইনে যুক্ত থাকার ফলে মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন’ স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা আপনাকে ধীরে ধীরে বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয়। এমনকি এটি আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও কমিয়ে দেয়।
মুক্তির উপায় কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচতে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ অত্যন্ত জরুরি। ১. স্ক্রিন-মুক্ত সময়: দিনের অন্তত ১-২ ঘণ্টা ফোন বা ল্যাপটপ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। ২. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ: কাজের সময় বা খাওয়ার সময় ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। ৩. বাস্তব জীবনে ফেরা: ভার্চুয়াল বন্ধুদের কমেন্ট পড়ার চেয়ে সশরীরে কারও সাথে কথা বলা, বই পড়া বা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো অনেক বেশি কার্যকর।
মনে রাখবেন, প্রযুক্তি আমাদের ব্যবহারের জন্য, আমরা যেন প্রযুক্তির দাসে পরিণত না হই। আজই নিজের স্ক্রিন টাইম চেক করুন এবং সুস্থ থাকার অঙ্গীকার নিন।