দীর্ঘ কয়েক বছরের আইনি লড়াই ও রাজপথের আন্দোলনের শেষে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহাসিক রায়ে রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৫ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ কর্মচারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মিটিয়ে দিতে হবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এবং বিধানসভা বাজেটের আবহেই এই রায়কে রাজ্য সরকারের বড় ‘মুখ পোড়া’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ডিএ কোনো দান-খয়রাত নয়, বরং রোপা রুল অনুযায়ী এটি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র মোট অঙ্ক প্রায় ৪১,৮৭১ কোটি টাকা। তার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১০,৪৬৮ কোটি টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে মেটাতে হবে নবান্নকে। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া কীভাবে মেটানো হবে, তা খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঘোষণা হতেই ধর্মতলায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অবস্থান বিক্ষোভে অকাল হোলি শুরু হয়ে যায়। কর্মচারীরা একে অপরের মুখে আবির মাখিয়ে জয়ের উল্লাসে ফেটে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দাবি, “সরকার আমাদের ভিখারি বলেছিল, আদালত বুঝিয়ে দিল এটা আমাদের হকের টাকা।” অন্যদিকে, এই রায়ের ফলে রাজ্য কোষাগারে যে বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।