লোকসভা নির্বাচনের (২০২৬) দ্বিতীয় দফার আগে খাস কলকাতায় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে শুরু করলেন তাঁর বর্ণাঢ্য রোডশো। মা সিদ্ধেশ্বরীর আশীর্বাদ নিয়ে তিলোত্তমার রাজপথে মোদীর উপস্থিতি উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মায়ের দরবারে মোদী
এদিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। প্রথা মেনে ধুতি-পাঞ্জাবিতে মা কালীর আরতি করেন তিনি। মন্দিরের সেবাইতদের সঙ্গে কথা বলে প্রায় ১৫ মিনিট সেখানে সময় কাটান। উল্লেখ্য, এই ৩২০ বছরের প্রাচীন মন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবও আসতেন, যা মোদীর সফরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উত্তর কলকাতায় গেরুয়া জোয়ার
পুজো দিয়ে মন্দির থেকে বেরোনোর পরেই শুরু হয় মেগা রোডশো। বিকে পাল অ্যাভিনিউ থেকে খান্না মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। রাস্তার দুধারের বারান্দা এবং ছাদ থেকেও সাধারণ মানুষকে পুষ্পবৃষ্টি করতে দেখা যায়। হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন নমো।
রোডশো রুট: বিকে পাল অ্যাভিনিউ $\rightarrow$ চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ $\rightarrow$ বিবেকানন্দ রোড $\rightarrow$ খান্না ক্রসিং।
স্লোগান: ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘মোদী মোদী’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে উত্তর কলকাতার অলিগলি।
মমতার গড়ে চ্যালেঞ্জ
উত্তর কলকাতা চিরকালই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এদিন প্রধানমন্ত্রীর রোডশোতে যে পরিমাণ জনসমাগম দেখা গেছে, তা শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর আগে সকালে ঠাকুরনগরে মতুয়াদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেওয়ার পর বিকেলে কলকাতার এই প্রচার মূলত শহরের মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ী ভোটারদের কাছে টানার কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তার চাদরে শহর
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর কলকাতা কার্যত দুর্গের চেহারা নেয়। মোতায়েন ছিল কয়েক হাজার পুলিশ এবং এসপিজি কমান্ডো। ড্রোন দিয়ে চালানো হয় কড়া নজরদারি।
দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক দু’দিন আগে উত্তর কলকাতার এই ‘মোদী শো’ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





