মহারাষ্ট্রের কল্যাণ জংশনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ভারতীয় রেলের নিয়মকানুন নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি বিহারের বাসিন্দা আদিত্য চৌহান তাঁর পরিবারকে ট্রেনে তুলে দিতে কল্যাণ স্টেশনে পৌঁছান। দুপুর ১২টার ট্রেন দেরিতে আসার খবর পেয়ে তিনি দীর্ঘ সময় স্টেশনেই অপেক্ষা করেন। কিন্তু ট্রেনটি ৫ ঘণ্টা দেরি করায় তিনি সেখানেই আটকে পড়েন। এই দীর্ঘ অপেক্ষার মাঝেই এক টিকিট কালেক্টর (টিসি) এসে আদিত্যের প্ল্যাটফর্ম টিকিট পরীক্ষা করেন এবং মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাকে ৫০০ টাকার জরিমানা করেন।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদিত্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও এবং চালানের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, “রেলের দোষে ট্রেন দেরি হলে যাত্রীকে কেন জরিমানা দিতে হবে?” তাঁর এই পোস্ট নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি সামনে আসতেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। একদিকে যেমন রেলের নিয়ম কঠোরভাবে মানার পক্ষে অনেকে সওয়াল করছেন, তেমনি অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থে রেলের নমনীয় হওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
আইনত বিচার করলে টিসি কিন্তু ভুল করেননি। ভারতীয় রেলের নিয়ম অনুযায়ী, একটি প্ল্যাটফর্ম টিকিট মাত্র দুই ঘণ্টার জন্যই বৈধ। সময়সীমা পার হওয়ার পর যাত্রীকে হয় পুনরায় টিকিট কাটতে হবে অথবা স্টেশন এলাকা ত্যাগ করতে হবে। টিসি কেবল তাঁর নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে নৈতিকতা নিয়ে। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, ট্রেনের দেরি হওয়ার দায়ভার যখন সম্পূর্ণভাবে রেল কর্তৃপক্ষের, তখন সেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে কেন যাত্রীকে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের ক্ষোভ স্পষ্ট। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, রেলওয়ে যদি মুহূর্তের মধ্যে জরিমানা আদায়ে তৎপর হয়, তবে ট্রেনের অস্বাভাবিক বিলম্বের জন্য যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা কেন দ্রুত হয় না? আদিত্যের এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ জরিমানা নয়, বরং এটি ভারতের রেল ব্যবস্থার এক বড় গাফিলতির প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ দাবি তুলছেন, যেখানে রেলের অব্যবস্থাপনায় যাত্রীরা হয়রানির শিকার হন, সেখানে এই ধরনের জরিমানা আদায়ের নিয়ম অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।





