ট্রেন নয় যেন ‘গ্রিন করিডোর’! বাংলা থেকে বেঙ্গালুরুতে ঢুকছে কাতারে কাতারে অনুপ্রবেশকারী?

পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্নাটকে যাতায়াতকারী ট্রেনগুলি কি এখন অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে? কর্নাটকের বিরোধী দলনেতার সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক চিঠিতে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে লেখা সেই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আসা ট্রেনগুলি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড়সড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, হাওড়া এবং শিয়ালদা থেকে বেঙ্গালুরুগামী ১৫ থেকে ১৭টি সাপ্তাহিক ট্রেন কার্যত অনুপ্রবেশকারীদের ‘গ্রিন করিডোর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার দাবি, কোনো সঠিক পরিচয় যাচাই ছাড়াই হাজার হাজার মানুষ এই ট্রেনগুলিতে যাতায়াত করছে। এই চক্রের পেছনে কাজ করছে ভুয়ো আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড তৈরির বিশাল এক সিন্ডিকেট। যাত্রীরা জাল নথির সাহায্যে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু পুলিশ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি বড় জালি নথি চক্রের হদিশ পেয়েছে, যা এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ট্রেনে অত্যধিক ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে খুব সহজেই অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ছে কর্নাটকের প্রাণকেন্দ্রে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন কর্নাটকের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি:

হাওড়া, মালদা, খড়্গপুর এবং বেঙ্গালুরু টার্মিনালে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

রেলপথের নিরাপত্তায় আরও বেশি আরপিএফ (RPF) এবং আইবি (IB) মোতায়েন করতে হবে।

রেলের রিজার্ভেশন সিস্টেমকে এসআইআর (SIR) এবং এনআরসি (NRC)-এর ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রেল রুটগুলিতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy