ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি কাজ করল না। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার পর এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিল তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করে আকাশছোঁয়া ‘টোল ট্যাক্স’ বা শুল্ক আরোপ করল ইরান।
মাশুল দিতে হবে ১৯ কোটি টাকা! ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার হাজী বাবাই ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ২০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা) শুল্ক দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যাও বেঁধে দিয়েছে ইরান। প্রতিদিন মাত্র ১০টি জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের মধ্যে ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠক কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। গালিবফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি দাবি করেন, তেহরান আর ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করতে রাজি নয়। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার পরেই সমুদ্রপথে এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ইরান।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে:
তেল ও গ্যাসের সংকট: বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের ২০ শতাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
খাদ্য ও ওষুধের আকাল: তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্য ও জীবনদায়ী ওষুধের সরবরাহ শৃঙ্খলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবাদে সরব আরব বিশ্ব: ইরানের এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। দুবাইয়ের তেল সংস্থা ‘অ্যাডনক’-এর প্রধান সুলতান আল জাবের জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কোনো একচেটিয়া অধিকার নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ধরনের ‘বিপজ্জনক নজির’ কখনোই মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
এখন দেখার, ইরানের এই ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ রুখতে আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়।





