ট্রাম্পের ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’র প্রস্তাবে সপাটে ‘না’ পাকিস্তানের! অস্বস্তিতে ওয়াশিংটন

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা ছিল, ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে পাকিস্তানসহ আরও কিছু মুসলিম দেশ ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। সেই লক্ষ্যেই তিনি কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই আশার সলিল সমাধি ঘটিয়ে পাকিস্তান সরাসরি জানিয়ে দিল, ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বড় ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালে আমেরিকার মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’ মূলত ইজরায়েল এবং একাধিক আরব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি মঞ্চ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের মতো দেশগুলি এই চুক্তিতে সই করলেও, পাকিস্তান বরাবরই নিজের অবস্থানে অটল। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং ট্রাম্পের সখ্যতা বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, হয়তো এবার ইসলামাবাদ ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সব জল্পনার ইতি টেনে দিল।

একটি টিভি সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ সাফ জানিয়েছেন, “অ্যাব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।” তাঁর কথায়, ৭৮ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তান কখনও ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করেনি, এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইজরায়েল ভ্রমণের অনুমতিও নেই। তিনি আরও বলেন, “যে রাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা অসম্ভব, তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিল বসাই যায় না।” গত মাসেই ইজরায়েলকে ‘মানবতার অভিশাপ’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছিলেন আসিফ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থানের পেছনে কেবল আদর্শিক কারণই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণও রয়েছে। ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিলে শেহবাজ শরিফের সরকারকে দেশের অন্দরে তীব্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। সেই সঙ্গে সৌদির মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ও রয়েছে, যাদের ওপর পাকিস্তানের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল।

তবে এই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যখন আসিম মুনির হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে গিয়েছেন এবং সেখানে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যানের পর আমেরিকা তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় এবং পাকিস্তান কীভাবে এই কূটনৈতিক অস্বস্তি সামাল দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy