আইপিএলের টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কেকেআর-এর কাছে হার। আর সেই হারের ধাক্কায় বিধ্বস্ত লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) শিবির। ম্যাচের শেষ বলে মহম্মদ শামির মারা ওভার বাউন্ডারি লড়াইকে সুপার ওভারে টেনে নিয়ে গেলেও, শেষ হাসি হাসল কলকাতা নাইট রাইডার্সই। টানা ৫ ম্যাচ হেরে লিগ টেবিলের একেবারে তলানিতে নেমে যাওয়ার পর এবার বড়সড় বিরতির ইঙ্গিত দিলেন অধিনায়ক ঋষভ পন্ত।
রিঙ্কু সিংয়ের বিধ্বংসী ইনিংস: এক সময় মনে হচ্ছিল কেকেআর অল্প রানেই গুটিয়ে যাবে। ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল নাইটরা। কিন্তু সেখান থেকেই ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান রিঙ্কু সিং। মাত্র ৫১ বলে ৮৩ রানের (৭টি চার ও ৫টি ছক্কা) এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে ১৫৫ রানে পৌঁছে দেন তিনি। এই বিধ্বংসী ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সুপার ওভারের নাটক ও শামির ছক্কা: রান তাড়া করতে নেমে লখনউয়ের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটলেও লড়াকু মানসিকতা দেখান মহম্মদ শামি। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ টাই করেন তিনি। কিন্তু সুপার ওভারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লখনউয়ের ব্যাটিং। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ২ রান সংগ্রহ করে তারা, যা আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর। অনায়াসেই সেই রান তুলে নেয় কেকেআর।
হারের পর বিদ্ধস্ত পন্ত: ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের হতাশা উগরে দেন ঋষভ পন্ত। তিনি বলেন, “আমাদের এখন একটা বিরতি প্রয়োজন। প্রতিটা ম্যাচেই চাপ থাকবে, কিন্তু সমাধান আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ এসে জিতিয়ে দিয়ে যাবে না। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।” সুপার ওভারে পুরানকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না— সেই প্রশ্নে পন্ত জানান, খারাপ সময়েও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখা জরুরি।
অজিঙ্ক রাহানের স্বস্তি: জয়ের পর কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে কৃতিত্ব দিয়েছেন বোলার ও রিঙ্কু সিংকে। তিনি বলেন, “১৬ ওভারের পর ম্যাচ আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, কিন্তু রিঙ্কুর ইনিংস আমাদের খেলায় ফেরায়। বোলারদের মধ্যে নারাইন, কার্তিক ত্যাগী এবং বৈভব অরোরা দুর্দান্ত সংযম দেখিয়েছেন।”
ম্যাচ সেরা রিঙ্কু সিং জানান, উইকেট হারানো দেখে তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকা। ব্যাট হাতে ৮৩ রান করার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও ৪টি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের হিরো তিনিই।





