টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি, প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবোস তৃণমূল কাউন্সিলরের,

নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার নিজের দলের নেতাদেরই কাঠগড়ায় তুললেন পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল কাউন্সিলর। তিনি শুধু অভিযোগ তুলেই থামেননি, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান ধরে ওঠবোস করেছেন। এই ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে রাজ্য রাজনীতিতে। তমলুক পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা পেশায় আইনজীবী পার্থসারথি মাইতি এই অভিনব প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।


 

কেন এই নাটকীয় প্রতিবাদ?

 

এসএসসি (SSC) সম্প্রতি অযোগ্য শিক্ষকদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে পূর্ব মেদিনীপুরের অনেক শিক্ষকের নাম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শাসক দলের একাধিক নেতা, তাঁদের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনেরা এই তালিকায় রয়েছেন। পার্থসারথি মাইতির দাবি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার পিছনে জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ জড়িত। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি জেনেও নীরব রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই নীরবতার সুযোগ নিয়েই আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’রা পার পেয়ে যাচ্ছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে পার্থকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমাদের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার যে সমস্ত নেতা টাকা নেওয়ার পরও মুখ খুলছেন না… তাঁদের হয়ে মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।” ভিডিওতে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামও উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন যে শুভেন্দুও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, অথচ নেতারা মুখ না খোলার কারণে তিনি বড় বড় ভাষণ দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।


 

তৃণমূল এবং বিজেপির প্রতিক্রিয়া

 

পার্থ মাইতির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কোনো আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠের নাম অযোগ্যদের তালিকায় নেই। অন্যদিকে, তমলুক পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর শবরী চক্রবর্তী পার্থের এই পদক্ষেপকে ‘প্রচার পাওয়ার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, পার্থের নিজের দলের নেতৃত্বই তাঁকে গুরুত্ব দেয় না।

তবে তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায় এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, “উনি একজন আইনজীবী হয়েও কীভাবে এই ধরনের বেআইনি কথা বলছেন? দলের হয়ে লড়াইয়ের নামে তিনি আসলে তৃণমূলকেই ছোট করছেন।”

পুরো ঘটনাটি নিয়ে এখন জেলার রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। পার্থের এই নাটকীয় প্রতিবাদ কি দলের ভেতরে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ, নাকি নিছকই রাজনৈতিক কৌশল— তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভেতরকার এই দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy