তপসিয়ার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড এবং দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্যের নতুন সরকার। বুধবার সাকলেই পুলিশ পাম অ্যাভিনিউ থেকে গ্রেফতার করেছে কারখানার মালিক জাফর নিসারকে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে কারখানার আরও এক কর্মীকে। বর্তমানে হাসপাতালে ৫ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এদিন বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে আর ‘টাকা দিয়ে বৈধতা’ কেনার সংস্কৃতি চলবে না।
এদিন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলিতে আগে কখনও সঠিক তদন্ত হয়নি। তিনি বলেন, “আগে হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডেও আমরা দেখেছি তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। অবৈধভাবে ব্যবসা করার দিন শেষ।” ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে একটি কড়া কিন্তু সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এতদিন টাকা দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করা যেত, বৈধতা দেখা হতো না। আমাদের সরকারে সেটা চলবে না। তাই আবেদন করছি, যা যা ত্রুটি আছে দ্রুত ঠিক করে নিন। আমরা চাই আপনারা বৈধভাবে ব্যবসা করুন, লাভ করুন। সরকার আপনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। কিন্তু আইন না মানলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দিলীপ ঘোষ আরও জানান যে, বর্তমানে বহু কারখানায় এমনকি বিদ্যুতের সংযোগ পর্যন্ত অবৈধ। মগরাহাটের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারায় এবং এর পিছনে এক শ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মীরা জড়িত থাকেন।” বালি, পাথর ও কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, এবার শহরের ঘিঞ্জি এলাকার অবৈধ কারখানাগুলির বিরুদ্ধেও ‘ফাইল’ খোলা হবে।
মেসির কাণ্ডের মতো ঘটনা শহরকে কলঙ্কিত করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “যেভাবে মানুষের টাকা লুঠ করা হয়েছে, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। পনেরো বছর ধরে অনেক বদলা-বদলি দেখেছি। এবার অভ্যাস না পাল্টালে আইন আছে সব বদলে দেওয়ার জন্য। যারা মানুষকে প্রতারণা করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অনেক বাঘ-সিংহকে এবার খাঁচায় ঢুকতে হবে।”
তপসিয়া অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি এদিন ক্রীড়া জগতের ব্যক্তিত্ব টুটু বসুর প্রয়াণেও শোকপ্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “টুটু বসু ময়দানের এক বর্ণময় চরিত্র ছিলেন। ক্রীড়া জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর চলে যাওয়া ময়দান তথা ক্রীড়া জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।”





