টয়ট্রেনের টয়লেটে লুকিয়ে সুখটান! ফায়ার অ্যালার্ম বাজতেই এনজেপি-তে হুলস্থুল, মরতে মরতে বাঁচলেন যাত্রীরা!

শিলিগুড়ি থেকে নীল পাহাড়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল স্বপ্নের টয়ট্রেন। কিন্তু মাঝপথেই তাল কাটল এক পর্যটকের চরম অবিবেচক আচরণে। বুধবার সকালে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে ঢোকার মুখে আগুন আতঙ্কে থমকে গেল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) এসি টয়ট্রেন। চলন্ত ট্রেনের শৌচালয়ে লুকিয়ে ধূমপান করতে গিয়ে ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে দিলেন এক যাত্রী, যা থেকে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক।

কী ঘটেছিল ঠিক সেই সময়ে? রেল সূত্রে খবর, এদিন সকালে এনজেপি স্টেশন থেকে যাত্রী বোঝাই করে দার্জিলিংয়ের দিকে যাচ্ছিল এসি টয়ট্রেনটি। শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের কাছে পৌঁছলে হঠাৎই একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন যাত্রীরা। একই সময়ে বেজে ওঠে ফায়ার অ্যালার্ম। প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন পর্যটকরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ট্রেন থামিয়ে দেন চালক। বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রেল কর্মীরা তৎক্ষণাৎ ইঞ্জিন থেকে যাত্রীবাহী কামরাটিকে আলাদা করে দেন। সুরক্ষিত করা হয় ইঞ্জিনটিকেও।

ধোঁয়ার উৎসের খোঁজে হুলস্থুল: ট্রেন থামিয়ে পর্যটকদের দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। রেলের প্রযুক্তিবিদ ও কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন ধোঁয়ার উৎস খুঁজতে। বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশির পর দেখা যায়, ওই এসি কামরার চারজন পর্যটক শৌচালয়ে ঢুকে লুকিয়ে ধূমপান করছিলেন। সিগারেটের সেই ধোঁয়া থেকেই স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্মটি বেজে উঠেছিল। স্রেফ একটু ‘সুখটান’ দিতে গিয়ে যে গোটা ট্রেনের যাত্রীদের প্রাণ এভাবে ওষ্ঠাগত হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি ওই পর্যটকরা।

রেল কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ: ঘটনা প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, “এটি ছিল মূলত মানুষের তৈরি ধোঁয়া (Man-made smoke)। অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে নিয়ম মেনে তদন্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত যাত্রীদের চিহ্নিত করে জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” রেল সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ট্রেনের ভেতর ধূমপান নিষিদ্ধের নোটিশ আরও বড় আকারে লাগানো হবে এবং পর্যটকদের নিয়মিত সচেতন করা হবে। সাময়িক উত্তেজনার পর ট্রেনটি পুনরায় দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy