“ঝালমুড়ি খাওয়া তো হল, এবার মাছ-ভাত খেয়ে দেখান!”—মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা!

বঙ্গে ভোটের উত্তাপ যত বাড়ছে, রাজনৈতিক নেতাদের বাক্যবাণও ততই তীক্ষ্ণ হচ্ছে। সম্প্রতি ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সৌজন্যের রাজনীতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি ‘খাদ্যাভ্যাস’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট ময়দানে এবার উন্নয়ন বা দুর্নীতি ছাপিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল বাঙালির প্রিয় ‘মাছ-ভাত’।

মাছ নিয়ে মোদীর তোপ: ঘটনার সূত্রপাত মেদিনীপুরের এক জনসভা থেকে। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল সরকার বাংলাকে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভর করতে পারেনি। এমনকি বাঙালিদের অন্য রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করে খেতে হয় বলে কটাক্ষ করেন তিনি। মোদী বলেন, “বাংলায় মাছের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট রাজের কারণে তা সফল হচ্ছে না।”

মমতার মোক্ষম পাল্টাচাল: মোদীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার সভা থেকে গর্জে ওঠেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীর দাবি নস্যাৎ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলছেন বাংলায় মাছ নেই! উনি কি জানেন যে বাংলা এখন মাছ উৎপাদনে ভারতের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানে? অন্ধ্র থেকে মাছ আসা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।”

এরপরই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চ্যালেঞ্জের সুরে মমতা বলেন, “আপনারা বিহারে মানুষকে মাছ-মাংস খেতে দেন না, দোকান বন্ধ করে দেন। বাংলায় এসে মাছ নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন? ক্ষমতা থাকলে একদিন আমাদের এখানে এসে মাছ-ভাত খেয়ে দেখুন, তবেই বুঝবেন বাঙালির স্বাদ আর শক্তি!”

বাঙালি আবেগ বনাম বিজেপির হিন্দুত্ব: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচেতনভাবেই মাছের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ এবং ‘আমিষ বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বাঙালির আবেগ ও খাদ্যাভ্যাসে হাত দিয়ে তিনি কৌশলে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন। অন্যদিকে, মোদীও কৃষি ও মৎস্য চাষের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে বড় করে দেখাতে চাইছেন।

ভোটের লড়াইতে এই ‘মাছ-ভাত’ যুদ্ধ কার পাতে বেশি ভোট তুলে দেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে ঝালমুড়ি পর্বের পর মমতার এই নতুন ‘চ্যালেঞ্জ’ যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy