২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার রাজনীতির লড়াই পৌঁছাল ঝালমুড়ির দোকানে! গতকাল ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচার সেরে ফেরার পথে হঠাৎই রাস্তার ধারের একটি দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সেই জনসংযোগের ভিডিও ভাইরাল হতেই আজ বীরভূমের মুরারই-এর সভা থেকে পাল্টা আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদীর এই কাজকে স্রেফ ‘নাটক’ ও ‘সাজানো চিত্রনাট্য’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
“পকেটে কি ১০ টাকা থাকে ওঁর?” এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে বিদ্রূপ করে বলেন, “উনি হঠাৎ রাস্তায় নেমে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খাচ্ছেন? ওঁর পকেটে কি কখনও ১০ টাকা থাকে? ওটা তো পুরো স্টেজ ম্যানেজড।” এখানেই থামেননি তৃণমূল নেত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করে গাড়ি থামালেন, তখন সেখানে আগে থেকে ক্যামেরা প্রস্তুত ছিল কীভাবে? মমতা দাবি করেন, “সবই নাটক! ওই ঝালমুড়িটাও ওঁর নিরাপত্তারক্ষীরাই বোধহয় বানিয়ে দিয়েছিল। মানুষের কাছে ভালো সাজার কী করুণ চেষ্টা!”
মোদীর ঝালমুড়ি ও বিক্রেতার অভিজ্ঞতা উল্লেখ্য, গত রবিবার ঝাড়গ্রামে ৪টি নির্বাচনী সভা করার ফাঁকে হঠাৎই বিক্রম কুমার শাহ-র দোকানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজের পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বের করে ঝালমুড়ি কেনেন এবং বিক্রেতার পরিবারের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী সেই সময় মজার ছলে বলেছিলেন, “আমি পেঁয়াজ খাই, কিন্তু মানুষের মাথা খাই না।” এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মোদী।
পাল্টা তোপ বিজেপির মমতার এই মন্তব্যের পর পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন বলেই মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী মাটির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন, সেটা কি অপরাধ? মুখ্যমন্ত্রী আসলে মোদীজির জনপ্রিয়তা দেখে আতঙ্কিত।”
রাজনীতিতে এবার ‘খাদ্য-যুদ্ধ’ নির্বাচনী ময়দানে এর আগে ‘জয় শ্রী রাম’ বা ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব নিয়ে লড়াই চললেও, এবার তাতে যোগ হলো বাঙালির প্রিয় ঝালমুড়ি। একদিকে মোদীর ‘স্ট্রিট ফুড’ ডিপ্লোম্যাসি, অন্যদিকে মমতার তাকে ‘চিত্রনাট্য’ বলে দাগিয়ে দেওয়া— সব মিলিয়ে ২০২৬ নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে এই ঝালমুড়ি কাণ্ড এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়।





