“আমাকে রানওয়েতে আধ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হল!”—খড়দার সভা থেকে ফের কপ্টার-ষড়যন্ত্রে সরব মমতা!

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হতে যখন আর কয়েক দিন বাকি, ঠিক তখনই কপ্টার বিভ্রাট নিয়ে ফের রণং দেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার খড়দায় নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর কপ্টার রানওয়েতে আধ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার নেপথ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হাত রয়েছে বলে সরাসরি তোপ দাগেন তিনি।

ঠিক কী অভিযোগ মমতার? এদিন খড়দার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিতে দেরি করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে রানওয়েতে আধ ঘণ্টা কপ্টারের ভেতর বসিয়ে রাখা হল। কেন দেরি হল তার কোনো সদুত্তর নেই। মনে হচ্ছে বিজেপি নেতাদের যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা আর বিরোধীদের কর্মসূচির কোনো গুরুত্ব নেই।”

বিজেপি ও কমিশনকে আক্রমণ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিরোধীদের প্রচার রুখতে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করছে বিজেপি। কপ্টার ওড়ানোর অনুমতি দিতে দেরি করাও সেই ‘চক্রান্তের’ অংশ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের নেতারা সভা করতে গেলে কপ্টার আটকে দেওয়া হচ্ছে, তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আর বিজেপি নেতারা যখন যাতায়াত করছেন, তখন সব রাস্তা পরিষ্কার। এটা কি গণতন্ত্র?”

পুরনো স্মৃতি উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী: এদিন বক্তৃতায় তিনি গত কয়েক দিনের ড্রোন আতঙ্ক এবং বৃষ্টির মধ্যে কপ্টার বিপর্যয়ের ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নিরাপত্তায় বারংবার গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁকে মানুষের কাছে পৌঁছানো থেকে রুখতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: মমতার এই অভিযোগের পর পাল্টা মুখ খুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, কপ্টারের ছাড়পত্র সম্পূর্ণ কারিগরি এবং নিরাপত্তার বিষয়, এতে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে কেবল ‘সহানুভূতি পাওয়ার নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা।

ভোটের আগে এই কপ্টার রাজনীতি এবং ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব বঙ্গ রাজনীতির পারদকে আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy