ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ির স্বাদ হলো তেতো! মোদীর জনসংযোগ ঘিরে চড়ল পারদ, বড় অভিযোগে সরব তৃণমূল

রবিবার ছুটির দিনে ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ‘ক্যাজুয়াল’ মেজাজ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়। রাস্তার ধারের দোকান থেকে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে না হতেই আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ফটো শ্যুট’-এর চক্করেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার জেরে ভেস্তে গিয়েছে তাঁদের নির্ধারিত নির্বাচনী সভা।

ঠিক কী ঘটেছিল ঝাড়গ্রামে? তৃণমূলের দাবি, রবিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ও কেশিয়ারিতে নির্বাচনী জনসভা করার কথা ছিল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের। তাঁদের হেলিকপ্টার অবতরণের কথা ছিল ঝাড়গ্রামেই। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী রাস্তার ধারে ঝালমুড়ি খেতে ব্যস্ত থাকায় এবং তাঁর নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের দোহাই দিয়ে সোরেন দম্পতির চপারকে দীর্ঘক্ষণ আকাশে অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। শেষমেশ নামার অনুমতি না পেয়ে সভা না করেই সোরেন দম্পতিকে রাঁচিতে ফিরে যেতে হয়।

তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রশ্ন, “প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত শখ বা ফটো তোলার আকর্ষণ কি গণতান্ত্রিক অধিকারের চেয়েও বড়?” তৃণমূলের তোপ, নিজের স্ন্যাকস বিরতি লম্বা করার জন্য ঝাড়খণ্ডের একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে ঘুরিয়ে রাখা কেবল অপেশাদারিত্ব নয়, বরং বিজেপির ‘আদিবাসী-বিরোধী’ মানসিকতারই প্রতিফলন।

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বয়ান মেলেনি। তবে ভোটের বাজারে মোদীর এই ঝালমুড়ি খাওয়া যে নিছক জনসংযোগ হয়ে থাকেনি, বরং এক বিশাল রাজনৈতিক বাদানুবাদে রূপ নিয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। আদিবাসী সেন্টিমেন্টকে উসকে দিয়ে তৃণমূল এই ইস্যুকে কতদূর নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy