ভারতের দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। তামিলনাড়ুর কল্পক্কমে অবস্থিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ (স্বনির্ভর পরমাণু বিক্রিয়া) অর্জন করেছে। এটি কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, বরং ভারতের তিন-স্তরের পরমাণু কর্মসূচির দ্বিতীয় স্তরে পা রাখার এক চূড়ান্ত মুহূর্ত।
কেন এই রিঅ্যাক্টরকে ‘ম্যাজিক’ বলা হচ্ছে?
৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই রিঅ্যাক্টরটি পরিচালনা করছে ভারতীয় নাভিকীয় বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (BHAVINI)। এর বিশেষত্ব হলো:
জ্বালানি উৎপাদন: এটি সোডিয়াম-কুলড প্রযুক্তিতে কাজ করে। সাধারণ রিঅ্যাক্টরের চেয়ে এটি আলাদা, কারণ এটি যতটা জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৮) ব্যবহার করে, তার চেয়ে বেশি জ্বালানি (প্লুটোনিয়াম-২৩৯) উৎপাদন করতে সক্ষম।
থোরিয়াম কানেকশন: বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ থোরিয়াম ভাণ্ডার রয়েছে ভারতে। এই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর সফল হওয়া মানেই ভারতের বিশাল থোরিয়াম সম্পদকে ব্যবহার করে তৃতীয় স্তরের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে যাওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন ও বিজ্ঞানীদের অবদান
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এই সাফল্যকে ভারতের পরমাণু যাত্রার এক ‘ডিফাইনিং স্টেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। ২০০৪ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। আইজিসিএআর (IGCAR) এবং ভাভিনির বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আজ সার্থক হলো। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স (টুইটার) বার্তায় জানান, “এটি আমাদের স্বদেশীয় ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার এক জ্বলন্ত নিদর্শন।”
পরিবেশ ও ভবিষ্যতের পাওনা
বর্জ্য হ্রাস: এই প্রযুক্তিতে পারমাণবিক বর্জ্য অনেক কম তৈরি হয় এবং জ্বালানির অপচয় প্রায় হয় না বললেই চলে।
কার্বন মুক্তি: কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে এটি ভারতের তুরুপের তাস হতে চলেছে।
স্বনির্ভরতা: থোরিয়াম ভিত্তিক প্রযুক্তি পুরোপুরি চালু হলে ভারতকে আর অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতে হবে না।
একনজরে বিজ্ঞানের অংক (Technical Insight)
পরমাণু বিজ্ঞানীদের মতে, এই পর্যায়ে ফাস্ট নিউট্রন ব্যবহার করা হয় যা ইউরেনিয়াম-২৩৮-কে প্লুটোনিয়াম-২৩৯-এ রূপান্তরিত করে। সমীকরণটি সহজ কথায়:
এই উৎপাদিত প্লুটোনিয়াম পরবর্তীকালে থোরিয়াম থেকে বিদ্যুৎ তৈরির মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।





