২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই দিকে দিকে অশান্তির খবর প্রকাশ্যে আসছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP) অজয় নন্দ। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশ যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে বদ্ধপরিকর।
এদিন সিপির বক্তব্যে সবথেকে বড় চমক ছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট। অজয় নন্দ জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় কমানো হয়েছে। বিষয়টি এখন সিকিয়োরিটি ডায়রেক্টরেটের অধীনে এবং তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। এর পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার জানান, এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতা শহর থেকেই অস্ত্রসহ ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারি যে অত্যন্ত আঁটোসাঁটো, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
বিজেপির জয় এবং আসন্ন বিজয় মিছিল নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন সিপি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পুলিশের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার বিজয় মিছিল বের করা যাবে না। অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো জমায়েত বা মিছিল হলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ আইনি পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে বিজয় মিছিলে জেসিবি (JCB) ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। অজয় নন্দ বলেন, “বিজয় মিছিলে জেসিবি নিয়ে বেরনো যাবে না। যারা বা যে সংস্থাগুলি এই জেসিবি ভাড়া দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে পুলিশ কমিশনার আরও বলেন যে, ভোট প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হয়েছে, তাই জয়ের পর যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। এমনকি পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরেও যদি কারও বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তবে তাকেও রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বিজেপি নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছে যে আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য বজায় রেখেছে পদ্ম শিবির, যা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।





