জেল থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত! আইপ্যাককে তোপ দাগলেন ‘গুড়-বাতাসা’র কারিগর

একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা, বীরভূমের ‘গুড়-বাতাসা’ খ্যাত অনুব্রত মন্ডল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর অনুব্রত এখন মুক্ত, কিন্তু তাঁর গলার স্বর বদলেছে। রাজনীতির ময়দানে হুমকি বা হুঙ্কারের পরিবর্তে এবার তাঁর গলায় শোনা গেল গভীর বিষাদ এবং তীব্র ক্ষোভ। রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ভরাডুবির জন্য তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-কে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মন্ডল বলেন, “১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল দল গড়েন, তখন আমরা মাত্র ৭টি আসনে জয়ী হয়েছিলাম। সেই সময় তৃণমূলে কোনো তথাকথিত ‘জ্ঞানীমুনি’ ছিল না। আমাদের মতো মাঠের কর্মীরাই দলকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে। তখন তো আইপ্যাকের প্রয়োজন হয়নি, তাহলে পরবর্তীতে কেন তাদের আনা হলো?” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আইপ্যাকের কর্মীরা রাজনীতির কিছুই জানে না, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল টাকা কামানো। আর এই বহিরাগতদের কারণেই দল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিমানী অনুব্রত জানান, এবার তাঁকে দলের পক্ষ থেকে ভোটের কোনো দায়িত্বই দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “কোর কমিটির বৈঠকে আমি জানতে চেয়েছিলাম আমার ভূমিকা কী হবে? আমাকে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছিল, কোনো বিধায়ক ডাকলে আমি যেন সেখানে না যাই। আমাকেই যদি দূরে সরিয়ে রাখা হয়, তবে আমি কেন আগ বাড়িয়ে কাজে নামব? বিজেপি মাঠে নেমে খেটেছে, তাই তারা জিতেছে।”

দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনুব্রত বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আমরা ক্ষমতায় এসেছিলাম, কিন্তু পরে কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল। তবে এখন কার কথা কে শোনে?” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বড় একা হয়ে গেছেন। তাঁর চারপাশের লোকগুলো বা আইপ্যাকের চক্রান্ত দেখে খুব খারাপ লাগে। আমরা ওনাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতাম, কিন্তু শেষ সময়ে উনি ভুল মানুষের পাল্লায় পড়েছেন।”

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত মন্ডল অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানান। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দলে সম্মান না পেলে তিনি আর সক্রিয় থাকবেন না। তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সম্মান না পেলে দল করার প্রয়োজন নেই, আমি চুপচাপ থাকব। তবে অন্য কোনো শিবিরে আমি পা রাখব না।” জেল ফেরত এই তৃণমূল নেতার এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার কি দলের অন্দরে বড় কোনো ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে? রাজ্য রাজনীতিতে এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy