জুবিন গার্গের ম্যানেজার ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ধারায় মামলা

আসামের সাংস্কৃতিক আইকন জুবিন গার্গের বহুল আলোচিত মৃত্যু মামলায় বড় সাফল্য পেল আসাম পুলিশের SIT (বিশেষ তদন্তকারী দল)। তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১০৩ (খুন)-এর অধীনে শ্যামকান্তু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা, শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং অমৃত প্রভা মহন্তের নাম অভিযুক্ত হিসেবে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জুবিন গার্গের। এই ঘটনা আসামজুড়ে প্রায় ৬০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করতে উৎসাহিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিধানসভায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে জুবিনের মৃত্যু ছিল “সাধারণ এবং স্পষ্ট খুন”, যার পরই ২৮ সেপ্টেম্বর SIT গঠন করা হয়।

CID স্পেশাল ডিজি মুন্না প্রসাদ গুপ্তার নেতৃত্বে এবং ৯ জন পুলিশ কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত SIT এই মামলার ব্যাপক তদন্ত করেছে, যেখানে ৩০০ জনেরও বেশি সাক্ষীর পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) রজিত কলিতা তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আজ (১২ ডিসেম্বর) আদালতে ব্যক্তিগতভাবে এই প্রমাণাদি দাখিল করেছেন।

💰 আর্থিক অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: কেন ম্যানেজার ও PSOs-এর বিরুদ্ধে মামলা?

মূল খুনের অভিযোগের বাইরেও SIT একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে:

  • ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ: চার্জশিটে নতুন করে ধারা ১০৬ যোগ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা শো থেকে আয়ের অর্থ সঠিকভাবে জমা দেননি এবং তার বান্ধবী ও বাগদত্তার জন্য সম্পত্তি, যানবাহন এবং ফ্ল্যাট কিনেছেন। এই আর্থিক অনিয়মের মোটিভকে খুনের পিছনে একটি শক্তিশালী কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • পার্শ্ববর্তী খুনে তুতো ভাই: জুবিন গার্গের তুতো ভাই এবং সাদিয়ার আসাম পুলিশের অতিরিক্ত এসপি সন্দীপন গার্গের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১০৫ (অপরাধমূলক নরহত্যা)-এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • PSOs-দের অ্যাকাউন্ট: SIT আবিষ্কার করেছে যে জুবিন গার্গ ব্যক্তিগত ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা ব্যবহার না করে প্রধানত তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (PSOs) নন্দেশ্বর বোরা এবং পরেশ বৈশ্যর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ১.২ কোটি টাকারও বেশি উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এই PSOs-দের বিরুদ্ধে BNS-এর ধারা ৩১৬ (অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ)-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।

⚖️ সিঙ্গাপুর তদন্তের বিপরীত চিত্র

আসাম পুলিশের SIT যেখানে পুরো মামলাটিকে “খুনের চশমা” দিয়ে দেখছে, সেখানে সিঙ্গাপুর পুলিশের চলমান স্বাধীন তদন্তে এখনও পর্যন্ত “কোনো ফাউল প্লে” বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

আসামে চার্জশিট আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল হওয়ার ফলে তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রতিটি অভিযুক্তের ভূমিকা ও দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। সূত্রের খবর, SIT-এর এই গুরুতর ফলাফলের কারণে গুয়াহাটি এবং আসামের আইনজীবী সম্প্রদায় অভিযুক্তদের পক্ষে মামলা লড়তে অস্বীকার করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy