উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে জিমে শরীরচর্চা করতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হলেন এক তরুণী। স্বাস্থ্য সচেতন যুবতীর প্রি-ওয়ার্কআউট ড্রিঙ্কে (Pre-Workout Drink) নেশাদ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল জিমের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আলম এবং আকরামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোয় এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ‘যোগী দাওয়াই’-এর ইঙ্গিত মিলেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, নির্যাতিতা যুবতী নিয়মিত বেরিলির ওই জিমে যেতেন। ঘটনার দিন তিনি যখন জিম করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন আলম এবং আকরাম তাঁকে একটি এনার্জি ড্রিঙ্ক বা প্রি-ওয়ার্কআউট ড্রিঙ্ক অফার করে। অভিযোগ, ওই পানীয়তেই আগে থেকে কড়া নেশার ওষুধ মিশিয়ে রাখা হয়েছিল। পানীয়টি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন ওই তরুণী।
অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে জিমেরই একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বুঝতে পারেন তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাড়িতে খবর দেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও ‘যোগী দাওয়াই’: ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আলম ও আকরামকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। বেরিলির এসপি জানিয়েছেন, “এই ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।” স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, অপরাধীদের কেবল জেল নয়, তাদের অবৈধ সম্পত্তির ওপর ‘বুলডোজার’ চালিয়ে যোগ্য শিক্ষা দেওয়া হবে।
সতর্কবার্তা: এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে জিম বা শরীরচর্চা কেন্দ্রে অচেনা কারোর দেওয়া কোনো পানীয় পান করার আগে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেরিলির এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ফিটনেস সেন্টারের মতো জনবহুল স্থানেও নারীদের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে। যোগী প্রশাসন এই দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে কী ধরণের চরম উদাহরণ তৈরি করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





