জিম, যোগা নয়, ফিট থাকতে এখন কেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘পিলেটস’? জানুন এর ৯টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা!

শারীরিক কার্যকলাপ সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার শারীরিক কার্যকলাপ অথবা ৭৫ মিনিট জোরালো-তীব্রতার কার্যকলাপের সুপারিশ করে। শারীরিক কসরতের বিভিন্ন ধরন রয়েছে— যেমন কার্ডিও, স্ট্রেংথ ট্রেনিং, যোগা ইত্যাদি। তবে বর্তমানে ফিটনেস দুনিয়ায় যে পদ্ধতিটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে, তা হলো পিলেটস (Pilates)

অষ্টম শতকের গোড়ার দিকে জোসেফ পিলেটস এই ব্যায়াম পদ্ধতিটি তৈরি করেন। এটি মূলত কোর শক্তি, অঙ্গবিন্যাস (Posture), নমনীয়তা (Flexibility) এবং শরীরের সচেতনতার উপর জোর দেয়। এই নিয়ন্ত্রিত আন্দোলন পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পিলেটসকে আপনার ওয়ার্কআউট রুটিনে যুক্ত করলে যে ৯টি স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন, তা নিচে দেওয়া হলো:

পিলেটসের ৯টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

১. কোর শক্তি বৃদ্ধি (Boosts Core Strength)

পিলেটস পেটের গভীর পেশী, নিতম্ব এবং নিম্ন পিঠের পেশীগুলিকে লক্ষ্য করে কোর শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এটি ভারী জিনিস তোলা বা ভারসাম্য বজায় রাখার মতো দৈনন্দিন কাজগুলিতে অত্যন্ত সহায়ক। নিয়মিত পিলেটস করলে অন্যান্য ব্যায়ামের সময় পেশীর উপর চাপও কমে।

২. নমনীয়তা উন্নত করে (Improves Flexibility)

নিয়মিত পিলেটস অনুশীলন পেশীগুলিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এর ফলে নমনীয়তা বাড়ে এবং চলাচলের সীমা বৃদ্ধি পায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে নড়াচড়ার সংমিশ্রণ পেশীর টান বা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৩. অঙ্গবিন্যাস এবং সারিবদ্ধতা ভালো হয় (Better Posture and Alignment)

পিলেটস শরীরের সচেতনতা তৈরি করে, যা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে হওয়া দুর্বল অঙ্গবিন্যাস সংশোধন করতে সাহায্য করে। মেরুদণ্ডকে সারিবদ্ধ করে এটি আপনাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে এবং দক্ষতার সঙ্গে চলাফেরা করতে সাহায্য করে। এটি মাথা ব্যথা বা কাঁধে ব্যথার মতো সমস্যা এড়াতেও সহায়ক।

৪. জয়েন্টের জন্য ভালো (Good for Your Joints)

এটি একটি কম-প্রভাবযুক্ত (low-impact) কার্যকলাপ, যা উচ্চ-প্রভাবযুক্ত ব্যায়ামের তুলনায় জয়েন্টগুলির উপর ন্যূনতম চাপ সৃষ্টি করে। এই কারণে আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি আদর্শ। এটি জয়েন্টের চারপাশের সহায়ক পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে তোলে।

৫. হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে (Improves Bone Density)

গবেষণায় দেখা গেছে, পিলেটস (বিশেষত অনুরূপ কম-প্রভাবযুক্ত ব্যায়ামের সঙ্গে যুক্ত হলে) প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের মতো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে হাড়ের ঘনত্ব উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।

৬. পিঠের ব্যথা উপশম (Relief from Back Pain)

পিলেটস মেরুদণ্ডকে স্থিতিশীল করে এবং পেটের গভীর পেশীগুলিকে নিযুক্ত করে নিম্ন পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথার জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের চেয়েও কার্যকর একটি প্রাকৃতিক সমর্থন ব্যবস্থার মতো কাজ করে।

৭. ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি (Better Balance and Stability)

পিলেটসে মন দিয়ে করা নড়াচড়া শরীরের সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা ভারসাম্য উন্নত করে এবং পড়ে যাওয়ার ঘটনা রোধ করে— যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮. আঘাত প্রতিরোধ (Prevents Injury)

পিলেটস শরীরের বিভিন্ন পেশীর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি তৈরি করে, যা ওজন তোলার সময় আঘাতের কারণ হতে পারে এমন ভারসাম্যহীনতা কমায়। এটি জয়েন্টগুলির কাছাকাছি থাকা স্থিতিশীল পেশীগুলিকেও শক্তিশালী করে।

৯. মানসিক চাপ হ্রাস (Reduced Stress)

পিলেটসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং মনোযোগের উপর জোর দেওয়া হয়, যা মানসিক চাপ কমানোর জন্য কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত পিলেটস অনুশীলন করেন, তারা ঘাড় এবং কাঁধের মতো এলাকায় মানসিক চাপজনিত শিথিলতা অনুভব করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy