জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! আম আদমি পার্টি (AAP)-র ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। আজ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় ওই সাতজন দলত্যাগী সাংসদকে সরকারিভাবে বিজেপি সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই সংযুক্তির ফলে উচ্চকক্ষে বিজেপির শক্তি বেড়ে দাঁড়াল ১১৩, যা নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য এক বিরাট জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারা ছাড়লেন কেজরিওয়ালের সঙ্গ?
দলত্যাগী সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের একদা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গেই পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, রাজেন্দ্র গুপ্ত এবং বিক্রম সাহনে। গত শুক্রবারই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আম আদমি পার্টির দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসাথে দলত্যাগ করায় সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হচ্ছে না।
বিপাকে আম আদমি পার্টি:
সাংসদদের এই গণ-দলত্যাগের ঘটনায় রীতিমতো কোণঠাসা আম আদমি পার্টি। সূত্রের খবর, এই সংযুক্তি প্রক্রিয়া আটকানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছিল আপ নেতৃত্ব। কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হওয়ার আগেই রাজ্যসভার সচিবালয় সংযুক্তিকরণ সম্পন্ন করে। রাঘব চাড্ডা সংবাদ সম্মেলনে জানান, যে দলের লক্ষ্য ছিল দুর্নীতির অবসান, তারাই আজ সমঝোতা করছে; তাই তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা এই ‘রুদ্ধশ্বাস’ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন:
দিল্লির রাজনীতিতে এই দলবদল এক তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং এই সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে খুশির হাওয়া। ২০২৭ সালের পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে এই দলবদল আপ-এর জন্য এক অশনি সংকেত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্যসভায় বিজেপির এই শক্তিবৃদ্ধি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল।





