উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে কর্মরত এক সরকারি স্কুল শিক্ষক সর্বেশ কুমারের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পরের দিনই সামনে এল একটি মর্মান্তিক ভিডিও, যেখানে অসহায়ভাবে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে ৪৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষককে। জানা গিয়েছে, তিনি রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভিডিওতে সর্বেশ কুমারের আকুতি
মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ওই ভিডিওতে (যদিও News18 Bangla ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি) সর্বেশ কুমারকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “দিদি, আমায় ক্ষমা কোরো। মা, প্লিজ আমার বাচ্চাগুলোকে দেখো। আমি এই ইলেকশন ডিউটিতে ফেল করলাম। আমি একটা পদক্ষেপ নিচ্ছি, তার জন্য আমি নিজেই দায়ী। কারও কোনও দোষ নেই। আমি খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছি। গত ২০ দিন ধরে আমি ঘুমোইনি। যদি আমার সময় থাকত, আমি কাজটা শেষ করতাম। আমার চারটে ছোট ছোট মেয়ে আছে। আমায় দয়া করে ক্ষমা করে দিও। আমি অনেক দূরের দুনিয়ায় চলে যাচ্ছি।”
চিঠিতেও ‘ভয়ঙ্কর চাপ’-এর উল্লেখ
পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক সর্বেশ কুমার গত ৭ অক্টোবর থেকে উত্তরপ্রদেশে SIR প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর কাজ ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা।
রবিবার সকালে নিজের বাড়িতেই সর্বেশ কুমারের মৃতদেহ উদ্ধার করেন তাঁর স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে দাবি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চিঠিও। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, “আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, কী করব? আমি আমার দুঃখ আর সমস্যার মাঝখানে আটকে গিয়েছি। আমার ভয় করছে, এবং চারপাশ থেকে বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির মাঝে আমি আটকে পড়ে গিয়েছি। এই কথাগুলো লিখতেও আমার ভয়ঙ্কর কষ্ট হচ্ছে।”
চিঠির শেষে তিনি নিজের স্ত্রীয়ের জন্য সাহায্য চেয়ে লিখেছেন, “এখন আমার স্ত্রীয়ের সাহায্য দরকার। দেখবেন যেন ওর বাকি জীবন কাটাতে কোনও অসুবিধা না হয়। অফিসার, একটু বুঝবেন, আমি এটা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।”
এই ঘটনাটি আবারও ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা কর্মীদের উপর থাকা অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক উদ্বেগের দিকটি তুলে ধরল।