উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বুধবার রাতের সেই নৃশংস শ্যুটআউটের পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখছেন, ঘটনার সময় গাড়ির বাঁ-দিকের সিটে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ বাবু। ঘাতকরা কি জানত তিনি ঠিক ওখানেই বসে আছেন, নাকি নিশানায় ছিল অন্য কেউ? এই প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলছে গোয়েন্দাদের।
গাড়ির ‘সিট পজিশন’ ও ঘাতকদের ছক তদন্তকারী দল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ রথ যখন তাঁর স্করপিও গাড়িতে করে ডোহরিয়ার দিকে ফিরছিলেন, তখন তিনি চালকের পাশের আসনে অর্থাৎ বাঁ-দিকে বসেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা বলছে, ঘাতকরা খুব কাছ থেকে বাঁ-দিকের উইন্ডো লক্ষ্য করেই অন্তত ১৬ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে, ঘাতকরা আগে থেকেই জানত গাড়ির কোন দিকে চন্দ্রনাথ বাবু বসে আছেন। এটি কোনও আকস্মিক হামলা নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের ‘রেকি’র ফসল বলে মনে করছেন সিআইডি আধিকারিকরা।
শুধু চন্দ্রনাথই কি টার্গেট? তদন্তে উঠে আসছে এক বিস্ফোরক দিক। যে গাড়িটিতে চন্দ্রনাথ বাবু ফিরছিলেন, সেটি অনেক সময় খোদ বিরোধী দলনেতা বা অন্য হেভিওয়েট নেতারাও ব্যবহার করতেন। ফলে খুনিদের আসল নিশানায় কেবল চন্দ্রনাথই ছিলেন, না কি গাড়িতে আরও বড় কাউকে প্রত্যাশা করেছিল তারা, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সিআইডি সূত্রে খবর, গত ২-৩ দিন ধরে ওই সাদা রঙের রহস্যময় গাড়িটি এলাকা রেকি করেছিল। খুনিরা জানত ওই গাড়িটি কার এবং সেখানে কারা থাকতে পারে।
পেশাদার শার্প শ্যুটারের কাজ ঘটনার সময় ঘাতকরা এমনভাবে গুলি চালিয়েছে যাতে বাঁ-দিকের জানলা দিয়ে সরাসরি চন্দ্রনাথের শরীরেই তিন থেকে চারটি বুলেট বিদ্ধ হয়। এমনকি পালানোর সময়ও তারা নিখুঁতভাবে এলাকা ছাড়ে। গাড়ির বাঁ-দিককেই ‘সফট টার্গেট’ করা এবং নিখুঁত নিশানায় গুলি চালানো থেকে স্পষ্ট যে, ঘাতকরা ছিল উচ্চমানের পেশাদার শার্প শ্যুটার।
ভুয়ো নম্বর প্লেট ও সিলিগুড়ি যোগ তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত সাদা রঙের গাড়িটির নম্বর প্লেট ছিল ভুয়ো। সিলিগুড়ির এক বাসিন্দার নামে ওই নম্বর নথিভুক্ত থাকলেও তাঁর আসল গাড়িটি বর্তমানে তাঁর কাছেই রয়েছে। অর্থাৎ, একটি সুপরিকল্পিত ‘ক্লনড’ গাড়ি ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, যাতে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করা যায়।
বর্তমানে মধ্যমগ্রাম ও ডোহরিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র বিশেষ দল প্রতিটি কোণ থেকে ঘটনার তদন্ত করছে। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ছায়াসঙ্গীর এই পরিণতির নেপথ্যে কি শুধুই রাজনৈতিক বদলা, নাকি গাড়ির ভেতরে অন্য কাউকে মারার গোপন ব্লু-প্রিন্ট ছিল, এখন সেই রহস্যভেদের অপেক্ষায় বাংলা।





