বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর স্মৃতি এখনও দগদগে। তার মধ্যেই জনমানসে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করছে ‘হান্টা ভাইরাস’ (Hantavirus)। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা এবং চিলি থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসের একটি বিশেষ প্রজাতি, যার নাম ‘অ্যানডেস ভাইরাস’ (Andes virus), তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হলেও, এই ভাইরাস কিন্তু কোভিডের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রহস্যময় প্রমোদতরীতে সংক্রমণ
সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীতে (MV Hondius) এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে, অন্তত ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু-সদস্যের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে হান্টা ভাইরাসের হদিস মিলেছে। ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং আরও অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর যে, আক্রান্ত দেশগুলো বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
লক্ষণ: যখন সাধারণ জ্বর হয়ে ওঠে মারণাস্ত্র
হান্টা ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো বেশ বিভ্রান্তিকর, যা শুরুতে সাধারণ ফ্লু বলে ভুল হতে পারে:
প্রাথমিক উপসর্গ: হঠাৎ তীব্র জ্বর, কাঁপুনি এবং পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা (বিশেষ করে পিঠ, উরু এবং কাঁধে)।
পরবর্তী ধাপ: ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঝিমঝিম ভাব।
সংকটজনক অবস্থা: সংক্রমণের চার থেকে দশ দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ফুসফুসে জল জমে যাওয়ার ফলে রোগী দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে। আমেরিকার কিছু অঞ্চলে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার প্রায় ৫০% পর্যন্ত হতে পারে।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ?
সাধারণত হান্টা ভাইরাস ইঁদুর বা বন্য ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া এই ‘অ্যানডেস ভাইরাস’ কিছুটা আলাদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। যদিও এটি কোভিডের মতো ঝড়ের গতিতে ছড়ায় না, তবে এর মরণক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় বিজ্ঞানীরা একে নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত।
প্রতিকার ও সাবধানতা
এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তবে শুরুতেই ধরা পড়লে নিবিড় পরিচর্যার (ICU) মাধ্যমে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। চিকিৎসকদের পরামর্শ: ১. বাড়ির আশেপাশে ইঁদুরের উপদ্রব বন্ধ করুন। ২. অপরিষ্কার জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করুন। ৩. জ্বর বা শ্বাসকষ্টের সাথে পেশির ব্যথা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, তবে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে যাঁরা বিদেশ ভ্রমণ করছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
হান্টা ভাইরাসের নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট বা ভারতে এর প্রভাব নিয়ে প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার আশেপাশে কেউ কি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন? সুস্থ থাকতে সতর্ক হোন আজই!





