বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের কিনারা করতে এবার উঠেপড়ে লেগেছে রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি। তদন্তের যত সময় এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার এবং নিখুঁত একটি অপারেশন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত যে, চন্দ্রনাথকে সরাতে ভিনরাজ্যের প্রফেশনাল শার্প শুটারদের ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বাইরের লোক হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার ম্যাপ আর অলিগলি তারা চিনল কী করে?
আর ঠিক এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা লোকাল গ্যাং সদস্যদের গতিবিধির ওপর নজর বাড়িয়েছেন। পুলিশের অনুমান, পুরো অপারেশন চালানোর জন্য একটি স্থানীয় অপরাধী চক্র ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান চেনানো থেকে শুরু করে রেইকি করা এবং খুনের পর পালানোর ‘এক্সিট রুট’ প্রস্তুত করার মতো জটিল কাজগুলো স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। নিখুঁত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতেই ভিনরাজ্যের কিলারদের সঙ্গে স্থানীয় গ্যাংয়ের সমন্বয় ঘটানো হয়েছিল।
এই রহস্যের জট খুলতে মধ্যমগ্রাম, বারাসত এবং তৎসংলগ্ন এলাকার অপরাধী জগতের নাড়িনক্ষত্র জানতে চাইছে সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এমনকি মধ্যমগ্রাম থানার পুরনো অফিসারদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, যাতে ওই এলাকার পুরনো দাগি অপরাধীদের বর্তমান গতিবিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। কোনো স্থানীয় গ্যাং মেম্বার সম্প্রতি বাড়ির বাইরে ছিল কি না, বা তাদের সঙ্গে বাইরের কারো যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, খুনের দিন যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির হদিশ পেতে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর এসটিএফ (STF)-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, অপরাধীদের ব্যবহৃত গাড়িটি ভিনরাজ্যের এবং সেটির নম্বর প্লেট সম্ভবত জাল। সোর্স এবং হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে এই হাই-প্রোফাইল খুনের নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীকে ধরতে মরিয়া প্রশাসন।





