ভদ্রেশ্বরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চন্দননগর পুরনিগমে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে বড়সড় ভাঙন। ডেপুটি মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি, দলের ৫ জন কাউন্সিলরও একসাথে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চন্দননগরের মতো শক্ত ঘাঁটিতে এমন গণ-ইস্তফা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এতদিন চন্দননগর পুরনিগমের ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টি ওয়ার্ড ছিল তৃণমূলের দখলে। একচ্ছত্র দাপট বজায় ছিল শাসকদলের। কিন্তু হঠাৎই এই পদত্যাগের ঘটনা পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দলের অন্দরের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের একপেশে মনোভাবই এই ক্ষোভের প্রধান কারণ।
কেন এই ভাঙন? সূত্রের খবর, ডেপুটি মেয়র এবং পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। উন্নয়নের কাজে বাধা সৃষ্টি এবং দলের নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে একাধিকবার তাঁরা সরব হলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে ধৈর্য হারিয়েই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিলেন তাঁরা।
পৌর এলাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগের ফলে চন্দননগর পুরনিগমের ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূলের আধিপত্য কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলো। যদিও এখনও সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে শাসকদল সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও, এই গণ-ইস্তফা যে দলের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, এই ভাঙন আটকাতে তৃণমূলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা কোনো পদক্ষেপ নেন কি না, নাকি চন্দননগরের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন কোনো জোটের জন্ম হতে চলেছে।





