ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র রেশ কেন কাটছে না? সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় শীতেও বিলম্ব, কবে নামবে পারদ?

ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ নিম্নচাপের আকার নিলেও দক্ষিণবঙ্গে তার প্রভাব এখনও কাটেনি। আকাশ মেঘলা, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস। বর্ষা বিদায় নিলেও শীতের আমেজ শুরু না হওয়ার মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতা।

আপনি জানতে চেয়েছিলেন এই নিম্নচাপ সৃষ্টির পেছনে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperature – SST) কেমন রয়েছে, সেই সম্পর্কিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা (SST) সংক্রান্ত তথ্য
আবহাওয়াবিদ এবং সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য বঙ্গোপসাগরের SST একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

সাধারণ উষ্ণতা: বঙ্গোপসাগরকে সাধারণত একটি উষ্ণ সমুদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে জলীয় বাষ্পের যোগান ও সঞ্চালন বেশি থাকে, যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

বর্তমান পরিস্থিতি: যদিও সরাসরি বর্তমান সময়ের তাপমাত্রা এখন উপলব্ধ নেই, তবে গবেষণা থেকে জানা যায়:

বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রের তাপমাত্রা নিয়মিত ২০°C থেকে ৩০°C এর সীমা অতিক্রম করে, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় গঠনের জন্য অনুকূল।

বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, গত ৫০ বছরে বঙ্গোপসাগরের SST ০.৫°C থেকে ১°C পর্যন্ত বেড়েছে। উষ্ণ জল বাষ্পীভবনে সহায়তা করে, যা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি যোগায়।

‘মান্থা’র প্রভাব: ‘মান্থা’ ঘূর্ণিঝড় নিম্নচাপে পরিণত হলেও সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে এর প্রভাব বায়ুমণ্ডলে থেকে যাচ্ছে। আর্দ্রতা ধরে রাখার ফলে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে, যা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল, শুষ্ক বাতাসকে রাজ্যে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে।

শীত কবে থেকে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-এর প্রভাব পুরোপুরি কেটে না গেলে উত্তুরে হিমেল হাওয়া রাজ্যে সক্রিয় হবে না।

দক্ষিণবঙ্গের বর্তমান আর্দ্রতা এবং মেঘলা আকাশ বজায় থাকার ফলে আগামী কয়েকদিন দিনের বেলায় তাপমাত্রা (৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকবে।

আবহাওয়াবীদদের আশা, আগামী সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হবে এবং তার পরই ধীরে ধীরে শীত পড়া শুরু হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy