ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও, এর প্রভাবে দুর্যোগের কাঁটা এখন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে। শঙ্কার মেঘ দেখা দিয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমেও। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাহাড়ের সমস্ত পার্ক ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্দাকফু যাওয়ার পারমিট ও মানেভঞ্জন থেকে ট্রেকিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাহাড় ও সমতলজুড়ে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। গত বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ‘মন্থা’র আগমন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্র ও শনিবার পাহাড়জুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে শুক্রবার উত্তরবঙ্গে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। সিকিমে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি তুষারপাতেরও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাসে উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলার আধিকারিকদের ঘুম উড়েছে। জেলা প্রশাসন কোনওরকম দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেকিং, র্যাফটিং, সাইক্লিং, প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো সমস্ত স্পোর্টস অ্যাকটিভিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জিটিএ-র অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের ফিল্ড ডিরেক্টর দাওয়া গ্যালপো শেরপা বলেন, লাল সতর্কতার কারণে তাঁরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার থেকেই পাহাড়ের ধসপ্রবণ ও নদী তীরবর্তী গ্রামগুলিতে মাইকিং শুরু হয়েছে। উত্তরকন্যায় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরকে ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পূর্ত, বিদ্যুৎ, সেচ, জনস্বাস্থ্য, পুলিশ প্রশাসন এবং সিভিল ডিফেন্সের জল বিভাগকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাহাড়ের ধসপ্রবণ এলাকায় আর্থমুভার এবং সমতলে সিভিল ডিফেন্সের রেসকিউ ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গম এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে স্যাটেলাইট ফোন এবং পুলিশের আরটি সেটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।





