ঘুমন্ত স্বামীকে কুড়ুল মেরে খুন, ইন্দোরের সোনম কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি?

দাম্পত্য কলহের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, আবারও তার মর্মান্তিক সাক্ষী হলো মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি। এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বামীকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাত্র তিন মাস আগে বিবাহিত স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম রাধিকা লোখান্ডে, এবং নিহত স্বামীর নাম অনিল লোখান্ডে। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোরের সোনম রঘুবংশীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই, যা আবারও দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতার এক ভয়াবহ দিক তুলে ধরল।

পুলিশ সূত্রে খবর, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়শই বিবাদ লেগেই থাকত। কিন্তু এই বিবাদ যে এতটাই ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। অভিযোগ, চরম উত্তেজনার মুহূর্তে স্ত্রী রাধিকা এক প্রকার রক্তপিপাসু হয়ে ওঠেন। স্বামী অনিল যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, সেই সুযোগে রাধিকা তাঁকে কুঠার দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত রাধিকাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সাঙ্গলি পুলিশের পরিদর্শক দীপক বান্দওয়ালকর এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে, হত্যার পেছনের আসল উদ্দেশ্য এবং এর মূল কারণ জানতে পুলিশ আরও গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইন্দোরের সোনম রঘুবংশীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সোনম তার স্বামী রাজাকে জোর করে মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাকে হত্যা করে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। গত ২৩ মে রাজা রঘুবংশীকে হত্যা করা হয় এবং ২ জুন তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপর ৯ জুন গাজিপুর থেকে সোনমকে গ্রেফতার করার পরই মেঘালয় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

এখন প্রশ্ন উঠছে, সাঙ্গলির রাধিকা লোখান্ডের এই ঘটনা কি ইন্দোরের সোনমের ঘটনার পুনরাবৃত্তি? নাকি এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন কোনো ব্যক্তিগত কারণ? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পুলিশের বিস্তারিত তদন্তের পরই। তবে, এই দুটি ঘটনাই দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা এবং তার ভয়াবহ পরিণতির এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে, যা আমাদের সমাজের অভ্যন্তরের এক অন্ধকার দিককে নতুন করে চিনিয়ে দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy