শিলিগুড়ি-কালিম্পং সংযোগকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক যেন বর্তমানে এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মংপু ফাটকের কাছে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি ১৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঠিক আগের দিন, বুধবার বিকেলে ভালুখোলা এলাকায় এক বাইক আরোহীর হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ। কালিম্পংয়ের ঠাকুরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ কামরুদ্দিনের চালানো একটি বালেনো গাড়ি (WB 74AY 1916) মংপু ফাটকের কাছে ২৪ গোলাই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। গাড়িটিতে ধূপগুড়ির বাসিন্দা গোবিন রায় নামে এক যাত্রী ছিলেন, যিনি বুধবার শিলিগুড়ি থেকে গাড়িটি রিজার্ভ করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভোরবেলার দিকে গাড়ি চালানোর সময় চালক মহম্মদ কামরুদ্দিনের তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার কারণেই এই বিপত্তি। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়েছে, তবে যাত্রী গোবিন রায় অলৌকিকভাবে সামান্য চোট পেয়ে বেঁচে গিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ, মল্লি পুলিশ পোস্টের অন্তর্গত ভালুখোলা এলাকায়। গ্যাংটকের তাদং এলাকার বাসিন্দা প্রয়াস ছেত্রী নিজের মোটরবাইক নিয়ে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দুধবাহী কনটেনার (WB 78/5773) গাড়িটির সঙ্গে তাঁর বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ওভারটেক করার সময় প্রয়াস ছেত্রীর হাত কনটেইনারটির পিছনের অংশে আটকে যায়। প্রচণ্ড গতির টানে তাঁর একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে বাইকে থাকা এক তরুণী অক্ষত থাকলেও প্রয়াস গুরুতর জখম হন। তাঁকে প্রথমে কালিম্পং জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ কনটেইনারটিকে আটক করেছে এবং চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। পরপর এই দুটি ঘটনায় পাহাড়ি রাস্তায় চালকদের সতর্ক হওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।





