ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ৬৬তম জন্মদিনের সকালেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন একসময়ের প্রভাবশালী রাজপুত্র অ্যান্ড্রু (বর্তমানে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর)। জেফ্রি এপস্টিন কেলেঙ্কারিতে ‘পাবলিক অফিসে অসদাচরণ’-এর গুরুতর অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তাঁকে আটক করেছে টেমস ভ্যালি পুলিশ (Thames Valley Police)।
সাঁড়াশি অভিযান ও গ্রেফতারি: পুলিশি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নরফোকের এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার সকালে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের ‘উড ফার্ম’ এবং বার্কশায়ারের ‘রয়্যাল লজ’-এ ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজপরিবারের এই সদস্যকে দীর্ঘমেয়াদী কারাবাসের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিপজ্জনক অভিযোগের পাহাড়: এই গ্রেফতারির মূলে রয়েছে সম্প্রতি আমেরিকায় প্রকাশিত কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত একগুচ্ছ গোপন নথি। অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে ব্রিটেনের বিশেষ বাণিজ্য দূত (Trade Envoy) থাকাকালীন অ্যান্ড্রু অত্যন্ত সংবেদনশীল বাণিজ্যিক তথ্য এপস্টিনের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর সফর এবং আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় নথিপত্র পাচারের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজতন্ত্রবিরোধী সংগঠন ‘রিপাবলিক’। তাদের লাগাতার চাপের মুখেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
অতীতের কালো ছায়া ও বর্তমান পরিস্থিতি: যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০২২ সালেই রাজকীয় উপাধি হারিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। সেই সময় একটি দেওয়ানি মামলার রফাদফা করলেও এবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ আলাদা এবং সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। ভাই অ্যান্ড্রুর এই গ্রেফতারিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস (Charles III)। বাকিংহাম প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এবং পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করতে তারা দায়বদ্ধ।
এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের নজর এখন লন্ডনের দিকে। রাজপরিবারের সম্মান রক্ষায় রাজা চার্লস এখন কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই দেখার।