কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে পশুহাটে গবাদি পশু কেনাবেচা এবং গো হত্যার ওপর কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এবার এই কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) তথা সিপিএম। আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ পরিকাঠামো এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে বামেরা। আর এই কারণেই বিষয়টিকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (সুপ্রিম কোর্ট) দরজায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে তারা।
সিপিএম পলিটব্যুরোর এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, পশুহাটে গবাদি পশু বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র আসলে পরোক্ষভাবে গো হত্যার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চাইছে। এটি দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী, কারণ পশু সংক্রান্ত বিষয়টি রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। বামেদের দাবি, এই আইনের ফলে শুধু সংখ্যালঘু বা অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষের খাদ্যাভ্যাসেই হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না, বরং পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত কোটি কোটি কৃষক এবং চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের রুটি-রুজিতেও টান পড়বে। তাই এই ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আইনের আইনি মোকাবিলা করতে তারা বদ্ধপরিকর।
এদিকে, এই সংবেদনশীল ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ময়দানে নেমেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। গো হত্যা এবং কেন্দ্রের আইন নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝে তিনি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদ রক্ষা করার পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন।
অধীর চৌধুরী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ভারতবর্ষ বহু জাতি, বহু ধর্ম এবং বৈচিত্র্যের দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে সব ধর্মের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় ভাবাবেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। জোর করে কারও ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করা উচিত নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরণের স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ বা মন্তব্য করা উচিত নয় যা সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতিকে বিঘ্নিত করতে পারে। সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার এবং সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা।
ভোটের মরশুমে গো হত্যা নিয়ে কেন্দ্রের এই কড়াকড়ি এবং তার বিপরীতে বাম-কংগ্রেসের এই সুর চড়ানো যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।





