রবিবাসরীয় বিকেলে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল ধামাকা! সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের দৌহিত্র চন্দ্র কুমার বোস। একসময়ের রাজ্য বিজেপির হেভিওয়েট সহ-সভাপতি তথা ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন তৃণমূলের সৈনিক।
তৃণমূল ভবনে গেরুয়া ত্যাগ রবিবার তৃণমূল ভবনে এক ছিমছাম অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন চন্দ্র কুমার বোস। গত বছরই বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। এদিন যোগদানের পর তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষা এবং নেতাজির আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বই একমাত্র পথ।
বিজেপিতে যাওয়া ‘ঐতিহাসিক ভুল’! ২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্র বোস। আশা করেছিলেন, নেতাজির ফাইল ডিক্লাসিফিকেশন করে তাঁর আদর্শকে জনসমক্ষে আনবে কেন্দ্র। কিন্তু মোহভঙ্গ হতে সময় লাগেনি। ২০২৩-এ বিজেপি ছাড়ার সময় তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছিলেন, “বিজেপিতে যোগ দেওয়া ছিল আমার জীবনের এক ঐতিহাসিক ভুল।” তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং নেতাজির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
সেই বিতর্কিত ‘বাম’ নিদান বিজেপিতে থাকাকালীন চন্দ্র কুমার বোসকে নিয়ে সবথেকে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার মঞ্চে। সেবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করার সময় নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভুলবশত বিজেপি নয়, বরং বামফ্রন্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বসেন তিনি। সেই ঘটনা নিয়ে আজও রাজনৈতিক মহলে চর্চা হয়।
তৃণমূলের লাভ কতটুকু? বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে চন্দ্র বোসের ঘাসফুল শিবিরে যোগদান তৃণমূলের কাছে বাড়তি অক্সিজেন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শহর কলকাতার অভিজাত ভোটার এবং নেতাজি অনুরাগী বাঙালির আবেগকে কাছে টানতে চন্দ্র বোস তৃণমূলের কাছে বড় হাতিয়ার হতে পারেন। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল যোগদান ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।





