ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা। চারদিক শুনশান। হঠাৎই পরপর কয়েকটি তীক্ষ্ণ গুলির শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন স্থানীয় মানুষজন অকুস্থলে পৌঁছলেন, তখন সেখানে পড়ে রয়েছে এক রক্তাক্ত শরীর। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মুহূর্তের বিবরণ দিতে গিয়ে এখনও ভয়ে কাঁপছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সেই অভিশপ্ত রাত ১০টা ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎই তিনি বাইকের আওয়াজ এবং তার পরপরই গুলির শব্দ শুনতে পান। তাঁর কথায়, “প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো বাজি ফাটছে। কিন্তু আওয়াজটা ছিল একদম আলাদা। ঘর থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগোতেই দেখি রাস্তায় কেউ একজন কাতরাচ্ছেন। সামনে গিয়ে দেখি পুরো শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে।”
পেশাদার খুনিদের কাজ? প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুলির শব্দ হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি বাইককে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। অন্ধকারে ঘাতকদের চেনা না গেলেও, তাদের অপারেশন চালানোর ধরন দেখে মনে করা হচ্ছে তারা পেশাদার শার্প শ্যুটার ছিল। চন্দ্রনাথ বাবুকে পালানোর কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
কান্না আর আতঙ্কে থমথমে এলাকা রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, যে জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে তা সচরাচর জনবহুল থাকলেও রাত বাড়লে কিছুটা নির্জন হয়ে যায়। আততায়ীরা সম্ভবত এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছে।
তদন্তে সিআইডি ও ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। প্রত্যক্ষদর্শীর এই বয়ানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাত ১০টার সেই সময়ে ওই এলাকায় আর কে কে উপস্থিত ছিল এবং কাদের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন সেখানে পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সিআইডি।
শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তির খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা না কি অন্য কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর এই বর্ণনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, খুনিরা কতটা ঠান্ডা মাথায় এই অপারেশন সেরেছে।





