গুরুগ্রামের পালাম বিহারে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলের বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত চারজন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে গুরুগ্রাম ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চারজনই বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং তারা দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় ছিল। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরির মতো প্রায় ২৪টি গুরুতর মামলা নথিভুক্ত রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ঠা জুন ভোররাতে। সেক্টর ২৩-এ অবস্থিত ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলের বাড়ির পেছনের লোহার গ্রিল কেটে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ভেতরে ঢোকে। বন্দুকের মুখে বাড়ির মহিলাদের জিম্মি করে তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে লুটপাট চালায়। সোনা, রুপা ও হীরার গয়নার পাশাপাশি নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চম্পট দেয়। ঘটনার পর কর্নেল নিজেই পালাম বিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তের দায়িত্বভার নেয় পালাম বিহার ক্রাইম ব্রাঞ্চ। প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অপরাধীরা বর্তমানে দিল্লির সঙ্গম বিহার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। পুলিশ তাদের ডেরা ঘিরে ফেললে শুরু হয় নাটকীয় পালাবদল। পুলিশ দেখেই দুষ্কৃতীরা পালানোর চেষ্টা করে এবং পালাতে গিয়ে একটি আন্ডারপাসের ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়। এই করুণ পরিণতির ফলে খায়রুল ওরফে আরমানের দুই পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া হিলাল ও মামানের পায়ে ফাটল ধরে এবং মামো খানের একটি হাত ভেঙে যায়। পুলিশের তৎপরতায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ হওয়ার পর তাদের সরাসরি আদালতে পেশ করা হবে।
প্রাথমিক জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী অফিসারদের মতে, এই দলটি বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করত। বিভিন্ন রাজ্যে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালানোর পর তারা আইনকে ফাঁকি দিয়ে আবার বাংলাদেশে পালিয়ে যেত। তাদের অপরাধের শিকড় কতটা গভীর, তা জানার চেষ্টা চলছে। জেরায় ধৃতদের অন্যান্য অপরাধের হদিস মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুগ্রাম পুলিশের এই সফল অভিযানকে এলাকায় সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। অপরাধীদের এই গ্যাংয়ের পেছনে আর কেউ মদত দিচ্ছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।





