মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার মহাপ্রলয়ের সংকেত! ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের অষ্টম দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই আবহে ইরানকে কার্যত ‘শেষ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল মার্কিন প্রশাসন। আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আজ রাতেই ইরানের ওপর ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা চালাতে চলেছে ওয়াশিংটন।
“আজ রাতেই হবে সবচেয়ে বড় অপারেশন”
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট জানান, মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমানগুলি ইরানের ওপর এমন হামলা চালাবে যা আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব। তাঁর কথায়, “আজ রাতে আমাদের সর্বকালের সবচেয়ে বড় বোমা হামলা অভিযান হবে। লক্ষ্য কেবল একটাই— ইরানের মিসাইল লঞ্চিং প্যাড এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলিকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া।”
আমেরিকার দাবি, ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে মার্কিন সেনা। ইরান এখন জোড়া ফ্রন্টে লড়ছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বেসেন্ট।
ভারতের ওপর যুদ্ধের কোপ: তেলের বাজারে আগুন!
মধ্যপ্রাচ্যের এই অশান্তির আঁচ এসে লেগেছে সরাসরি ভারতেও। ইরান ইতিমধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে।
আমেরিকার ‘অনুমতি’ ও কূটনৈতিক বিতর্ক
জ্বালানি সংকটে নাজেহাল ভারতকে আগামী ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে আমেরিকা। তবে এই ‘অনুমতি’ শব্দবন্ধ নিয়েই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। ভারতের মতো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা কীভাবে নির্দেশ বা অনুমতি দিতে পারে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আমেরিকার এই দাদাগিরি আসলে নিজেদের স্বার্থরক্ষা নাকি ভারতকে চাপে রাখার কৌশল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।