তপ্ত রোদে একটু স্বস্তির খোঁজে যারা সুইমিং পুলের নীল জলে শরীর ভেজানোর পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। শহরের একাধিক নামী সুইমিং পুল এখন বন্ধ হওয়ার মুখে। গরমের মরসুম শুরু হতে না হতেই জল পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিকের অস্বাভাবিক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় মাথায় হাত পুল পরিচালকদের।
কেন এই হাহাকার?
পুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সংকটের মূলে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতের জেরে রাসায়নিক সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। পুলের জলকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখতে যে ক্লোরিন-ভিত্তিক জীবাণুনাশক প্রয়োজন, তার জোগান তলানিতে ঠেকেছে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে, ক্লোরিন জলে মিশে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড তৈরি করে যা ক্ষতিকারক শ্যাওলা ও জীবাণু ধ্বংস করে। এই সুরক্ষাকবচ না থাকলে পুলে নামা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
রহস্যময় রাসায়নিক ও বিভ্রান্তি
এই সংকটের মাঝেই বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু ‘অদ্ভুত’ রাসায়নিকের নাম, যা নিয়ে ধন্দে বিশেষজ্ঞরাও। ‘ফুলসডিয়াম ক্লোরেট’, ‘ফ্যাটাস ম্যাক্সিমাস স্টেবিলাইজার’ কিংবা ‘প্র্যাঙ্কিয়াম হাইড্রোক্সাইড’-এর মতো অবৈজ্ঞানিক নামের আমদানি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এগুলোর বেশিরভাগই ভুয়ো তথ্য বা অতিরঞ্জিত প্রচার। এমনকি সাধারণ মানুষের একাংশ মজা করে বলছেন, “পয়লা এপ্রিলের সকালে এসব খবর আবার ‘এপ্রিল ফুল’ বানানোর কৌশল নয় তো?”
পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা
সরবরাহকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রাসায়নিকের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। এর ফলে:
সুইমিং পুলের মেম্বারশিপ ফি বাড়তে পারে।
অনেক ক্লাব সাময়িকভাবে সদস্য নেওয়া বন্ধ রাখতে পারে।
পর্যাপ্ত রাসায়নিক ছাড়া জল ব্যবহারের ফলে চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে আশার কথা এই যে, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এই সংকট সাময়িক। এপ্রিলের শুরুতে এমন কিছু অদ্ভুত খবর সামনে এলেও দ্রুতই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলগুলো সচল করার চেষ্টা চলছে। ততক্ষণ পর্যন্ত, নীল জলে ঝাঁপ দেওয়ার আগে রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





