খামেনেইর পর কে? তেহরানের মসনদের ৫ দাবিদারকে! ট্রাম্পের ‘তুরুপের তাস’ কে?

প্রায় চার দশকের লৌহকঠিন শাসনের অবসান। আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এখন মহাপ্রলয়ের পূর্বাভাস। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আর ৭ দিনের জাতীয় ছুটির আড়ালে এখন তেহরানের অন্দরে শুরু হয়েছে সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

৮৬ বছর বয়সী খামেনেই তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য একটি গোপন তালিকা তৈরি করেছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রহস্য বজায় রেখে জানিয়েছেন, তাঁর নজরেও কয়েকজন ‘যোগ্য প্রার্থী’ রয়েছেন। এক নজরে দেখে নিন খামেনেইর সিংহাসনের প্রধান ৫ দাবিদারকে:

১. আলিরেজ়া আরাফি: অভিজ্ঞতার পাহাড়

খামেনেইর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ভাইস চেয়ারম্যান। ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে তাঁর বিশাল প্রভাব থাকলেও সামরিক বা নিরাপত্তা কাঠামোর (IRGC) সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র কিছুটা দুর্বল।

২. মহম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি: কট্টরপন্থার মুখ

যাঁরা আমেরিকাকে ‘শয়তান’ মনে করেন, তাঁদের প্রতিনিধি এই ধর্মগুরু। তাঁর মতে, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য। কট্টরপন্থী অংশের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া, যা তাঁকে দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে।

৩. হাসান খোমেইনি: বিপ্লবের উত্তরাধিকার

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লাহ রুহোল্লা খোমেইনির নাতি। তাঁর নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বিপ্লবের আবেগ। তবে তুলনামূলকভাবে কম কট্টরপন্থী হওয়ায় শাসনব্যবস্থার এলিট শ্রেণির মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

৪. মোজতবা খামেনেই: পুত্র ভাগ্য কি খুলবে?

খামেনেইর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা। বাবার অবর্তমানে তাঁর নাম বারবার আলোচনায় এলেও খামেনেই নিজেই চেয়েছিলেন নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক না করতে। তবে পর্দার আড়ালে মোজতবা কতটা শক্তিশালী চাল চালবেন, তা সময়ই বলবে।

৫. হাশেম হোসেইনি বুশেরি ও মোহসেনি-এজেই

তালিকায় রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি-এজেই এবং জ্যেষ্ঠ ধর্মগুরু বুশেরিও। এঁরা দুজনেই খামেনেইর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং শাসনতন্ত্রের কলকাঠি নাড়তে সিদ্ধহস্ত।


নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অনিশ্চয়তা

ইরানের নিয়ম অনুযায়ী, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এবং আমেরিকার সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকিতে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া কি স্বাভাবিক থাকবে? না কি সামরিক বাহিনী (IRGC) নিজেই ক্ষমতা দখল করবে?

খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে যিনিই আসুন না কেন, তাঁকে একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সামলাতে হবে, তেমনই আমেরিকার ‘শাসন পরিবর্তনের’ হুমকি মোকাবিলা করতে হবে। ইরানের এই ডামাডোল কি গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করবে, না কি আরও একজন কট্টরপন্থী একনায়ককে জন্ম দেবে— সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy