কোহলির কান্নার ১০ বছর পর সঞ্জু-গর্জন! হেলমেট ছুঁড়ে কেন হাঁটু গেড়ে বসলেন মাটিতে?

সালটা ছিল ২০১৬। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে চোখের জলে মাঠ ছেড়েছিলেন বিরাট কোহলি। বিরাটের সেই অপরাজিত ৮৯ রান বৃথা গিয়েছিল। ঠিক ১০ বছর পর, ২০২৬-এর ১ মার্চ সেই ইডেনেই যেন ইতিহাস ফিরে এল। এবার বিরাট নেই, কিন্তু আছেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর অতিমানবীয় ৯৭ রানের ইনিংসে ভর করেই ক্যারিবিয়ানদের চূর্ণ করে সেমিফাইনালের টিকিট কনফার্ম করল ‘মেন ইন ব্লু’।

ইডেনে স্যামসন-ঝড় ও সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

রবিবার ডু-অর-ডাই ম্যাচে ১৯৬ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়েই রুদ্রমূর্তি ধরেন সঞ্জু। ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কা। রোমারিও শেপার্ডকে বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ জেতানোর পরেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সঞ্জু। মাঠের মাঝেই হেলমেট খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি। দু-হাত আকাশে ছড়িয়ে যীশুকে ধন্যবাদ জানানোর পর হাতজোড় করে প্রণাম করতে দেখা যায় তাঁকে।

রহস্যময় সেলিব্রেশন: কী বললেন সঞ্জু?

ম্যাচ শেষে যখন গোটা দেশ তাঁর এই বিশেষ ভঙ্গিমা নিয়ে চর্চায় মত্ত, তখন মুখ খুললেন খোদ সঞ্জু স্যামসন। তবে সেলিব্রেশনের গূঢ় রহস্য এখনই ফাঁস করতে নারাজ তিনি। সঞ্জু বলেন:

“এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। আমি কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে খুব বিশ্বাসী। এই সেলিব্রেশনের পেছনে একটা গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে, যার অর্থ আমি এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে আনতে চাই না। এটা আমার ব্যক্তিগতই থাক।”

১০ বছরের ক্ষতে প্রলেপ

২০১৬-র সেই হারের যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেননি ভারতীয় সমর্থকরা। সঞ্জুর এই ইনিংস যেন সেই ক্ষতে প্রলেপ দিল। মাঝপথে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন শিবম দুবেকে সঙ্গী করে কার্যত একাই টেনে নিয়ে গেলেন দলকে। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা মাঠে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন সঞ্জুকে। গ্যালারি তখন চিৎকার করছে— “সঞ্জু… সঞ্জু!”

এখন ভারতের সামনে সেমিফাইনালের বাধা ইংল্যান্ড। ফর্মের তুঙ্গে থাকা সঞ্জু কি পারবেন জস বাটলারদের উড়িয়ে দিয়ে ভারতকে ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে? উত্তরের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy