নিজের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এর একাংশকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিসের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পুরসভাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
ঠিক কী বলেছেন অভিষেক? পুরসভার নোটিসের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগে নির্দিষ্টভাবে জেনে আসুন কোন অংশটি অবৈধ। যে অংশ ওরা অবৈধ বলে চিহ্নিত বা মাপ করে দেবে, তার যথাযথ উত্তর আমি দিয়ে দেব।”
পুরসভার নোটিস ও বিতর্ক: সম্প্রতি কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং ১২১ কালীঘাট রোডের আরও একটি বাড়িতে পরিদর্শনে যান। পুরসভার অভিযোগ, পুরনো কাঠামো ভেঙে নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন নির্মাণ করা হয়েছে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইনের ৪০০(১) ধারায় নোটিস পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে সেই ‘অবৈধ’ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পুরসভা নিজেই কড়া পদক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী হলফনামায় ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটিকে অভিষেক নিজের নামে নয়, বরং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার আবাসন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে নোটিসটিও পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নামেই। অন্যদিকে, কালীঘাটের বাড়িটি অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকায়, তাঁর নামেই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তি খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ঠিক তার পরেই পুরসভার এই তৎপরতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধীদের মতে, এটি প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ। তবে তৃণমূল এই অভিযোগকে পাত্তা না দিলেও, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সংগঠন মজবুত রাখা এবং পুরসভার ওপর নিয়ন্ত্রণ অটুট রাখাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল। এখন দেখার বিষয়, পুরসভার নোটিসের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়।





